চট্টগ্রাম থেকে: ২০১২ সালে টি-টুয়েন্টি অভিষেকে ১৭ বলে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে জয় এনে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। পাওয়ার হিটিংয়ে তার সক্ষমতার কথা সবারই জানা। ১০ বছর পরও স্বভাবসুলভ ব্যাটিং দেখা গেল বিপিএলের মঞ্চে। চট্টগ্রাম পর্বের শুরুর ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ২৫ বলে ৪৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ব্যাটার। যদিও দলকে জেতাতে পারেননি।
বয়স ৩৬ পেরোলেও সহজাত ব্যাটিং ভোলেননি জিয়া। পাওয়ার হিটিং দিয়েই জাতীয় দলে এসেছিলেন। অবশ্য দুই বছর পরই থমকে যায় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
নতুন করে ব্যাটিং ঝলক দেখানো জিয়া মনে করেন পাওয়ার হিটিংয়ে টেকনিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল উইকেট।
‘পাওয়ার হিটিং নিয়ে যেটা অনুভব করি, মিরপুরের শেষ দুইটা ম্যাচে রান কিন্তু ১৮০-১৯০ হয়েছে। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কিন্তু অনেক ভালো খেলেছে। তৌহিদ হৃদয়, জাকির হাসান ওরা কিন্তু অনেক ভালো খেলেছে। যেটা মনে করি, পাওয়ার হিটিংয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছে উইকেট। উইকেট ভালো না হলে পাওয়ার হিট করতে পারবেন না। ব্যাটে সুন্দর বল আসলেই হিট করতে পারবেন। মিরপুরের উইকেট সুন্দর ছিল। রান কিন্তু ঠিকই হয়েছে। এখানে (চট্টগ্রামে) সুন্দর উইকেট। অভ্যাসটা গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট ভালো হবে অটোমেটিক হিট ভালো হবে। উইকেট ভালো না হলে হিট ভালো হবে না। যতই টেকনিক ঠিক করেন না কেনো কোনো লাভ নেই। ব্যাটে বল আসতে হবে।’
টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে সাফল্যের টোটকা পাওয়ার হিটিং। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে চর্চা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সাফল্য পেতে বিশেষজ্ঞ কোচ শ্রীধরণ শ্রীরামকে আনা হয় গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে। যদিও প্রত্যাশা সেভাবে মেটেনি।
বিপিএলে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় কয়েকজন ক্রিকেটারের ব্যাটে পাওয়ার হিটিংয়ের ঝলক। যার মধ্যে অন্যতম সিলেট স্ট্রাইকার্সের টপঅর্ডার ব্যাটার তৌহিদ হৃদয় ও জাকির হাসান। ভালো উইকেটের ফায়দা দারুণভাবে তুলেছেন তারা।
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি জিয়া। তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেলেও ব্যাটিং করতে হয়নি। উসমান খান সেঞ্চুরি করে একাই তুলে আনেন জয়।
প্রথমবার ব্যাট করতে নেমেই চার ছক্কা, তিন চারে জিয়া খেলেছেন ৪৭ রানের ইনিংস। জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দল তো ভিন্ন কিছু। এটা তো আমাদের কারো হাতে নেই। আমার হাতে যেটা আছে সেটা হল ফিটনেস ঠিক রেখে পারফর্ম করা। সেটা আমার হাতে আছে, ওখানেই ফোকাস করছি। তবে নিশ্চিতভাবেই অমার তো বয়স হয়েছে। এখন পারফর্ম করতেই হবে। ফিটনেস ধরে রাখতেই হবে। ঠিক থাকতে হবে। জাস্ট এনজয় টু প্লে।’









