চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সেক্রেটারি পদে হেরেছেন নায়িকা নিপুণ আক্তার। তিনি ডিপজলের কাছে ১৬ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। ভোটের ফলাফলও মেনে নিয়েছিলেন নিপুণ! এমনকি ফলাফল ঘোষণার সময় নব নির্বাচিতদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছিলেন!
তবে মাস পূর্তির আগেই শিল্পী সমিতি বিজয়ী মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল প্যানেলের নির্বাচিত কমিটির ২০২৪-২৬ মেয়াদের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেছেন নিপুণ। রিটে তিনি মিশা-ডিপজলের নেতৃত্বাধীন কমিটির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার পাশাপাশি তদন্ত চেয়েছেন।
এরপর থেকে সমালোচনায় পড়েছেন নিপুণ। অনেকেই বলছেন, তাহলে নিপুণ কেন ফুল দিয়ে মিশা-ডিপজলকে বরণ করেছিলেন? কেনই বা নির্বাচনকালীন কোনো অভিযোগ তোলেননি?
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন নিপুণ। রিট প্রসঙ্গে সেখান থেকে ‘পিতার আসন’, ‘বস নাম্বার ওয়ান’ ছবির এই নায়িকা বলেন, নির্বাচনের পরে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য অগ্রিম টিকেট কেনা ছিল। সুস্থ হয়ে এখানে চলে আসতে হয়েছে। তবে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আসার আগে আমার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেছিলাম। তিনি বললেন একমাস হয়ে গেলেও সমস্যা নেই।
নিপুণের পরিস্কার কথা, আমার হাতে যেহেতু কারচুপির প্রমাণ আছে, সঠিক বিচার আদালত করবেন। এ মাসের শেষে ঢাকা ফিরবো। আমার কাছে থাকা যথেষ্ঠ প্রমাণ আলাদতে তুললেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।
এদিকে, হাইকোর্টে নিপুণের রিট করার খবর পেয়ে চটেছেন সমিতির সাবেক সেক্রেটারি জায়েদ খান। বুধবার বিকেলে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সে ভোটের ফলাফল মেনে ফুলের মালা পরিয়ে বলেছিল সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। মাস না যেতে তার মনে হচ্ছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। মানে যখন যা মনে হয় তাই করছে। চেয়ারের লোভে এমনটা করছেন নিপুণ, এসময় এমন মন্তব্যও করেন জায়েদ।
জায়েদ খান আশা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের নোংরা মানসিকতার মানুষকে শিল্পীরা প্রতিহত করবে। আর সে (নিপুণ) কেন রিট করেছে আমার জানা নেই। আমি আইন বিশেষজ্ঞ নই। তবে মালা পরিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে ঘোষণা দেয়ার পর রিট করাটা অন্যায় এবং শিল্পী কখনো এমন দ্বৈত নীতির হতে পারে না।
জায়েদ খান মনে করেন, শিল্পী সমিতিতে না থাকায় নিপুণ আলোচনার বাইরে চলে গেছেন। এই নায়ক বলেন, কদিন সমিতিতে না থেকে তার মনে হয়েছে, আমি নাই হয়ে গেছি। আলোচনায় আসা দরকার মনে করেছে তাই এমন করেছে। এছাড়া, আশপাশে কিছু মানুষ থাকে তারা বুঝিয়েছেন তাই হয়তো সে (নিপুণ) রিট করেছেন। এসব কারণে সব শিল্পীদের ছোট করা হচ্ছে এবং শিল্পীরা দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে।
গত ১৯ এপ্রিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদি নির্বাচনে জয়ী হয়েছে মিশা-ডিপজল প্যানেল। সভাপতি পদে মিশা ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তিনি হারিয়েছেন নিপুণ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মাহমুদ কলিকে, যিনি ১৭০ ভোট পেয়েছিলেন।
অন্যদিকেম মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে সেক্রেটারি পদে মনোয়ার হোসেন ডিপজলের কাছে হেরে যান নিপুণ আক্তার। ডিপজল ২২৫ ভোট পেয়েছিলেন এবং নিপুণ পেয়েছিলেন ২০৯ ভোট।









