চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃষিযন্ত্র প্রদর্শনী চায়না ইন্টারন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল মেশিনারি এক্সিবিশন (সিআইএএমই) ২০২৫। এবারের প্রদর্শনীতে ২ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
আজ ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত উহান ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো সেন্টারে।
প্রদর্শনীতে চাষ, বপন, সেচ, সার প্রয়োগ, ফসল কাটা, প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে আধুনিক স্মার্ট কৃষিযন্ত্র, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কৃষি উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল ফার্মিং–এর বিস্তৃত প্রদর্শনী থাকছে। বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে অংশ নিয়েছে শীর্ষ কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
বাংলাদেশ থেকেও এবার অংশ নিয়েছে কয়েকটি কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, আমদানিকারক প্রতিনিধি এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। তারা চীনের কৃষিযন্ত্র প্রযুক্তির আধুনিক অগ্রগতি, নতুন মডেল ও কৃষি–যান্ত্রিকীকরণের সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করবেন।
মেলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেটাল লিমিটেডের সিইও মিজানুর রহমান বলেন, ধান, শাকসবজি ও ফলচাষে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি এবং পাহাড়ি ও অনুন্নত এলাকার উপযোগী কৃষিযন্ত্রের বিষয়ে তার প্রতিষ্ঠানের বিশেষ আগ্রহ আছে।

চায়না ইন্টারন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল মেশিনারি এক্সিবিশন –এর ইতিহাস প্রায় সাত দশক পুরোনো। ১৯৫০-এর দশকে ‘ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টস অর্ডারিং ফেয়ার’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই আয়োজন ২০১১ সাল থেকে তিনটি প্রধান চীনা সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছে—চায়না অ্যাগ্রিকালচারাল মেশিনারি ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশন (সিএএমডিএ), চায়না অ্যাগ্রিকালচারাল মেকানাইজেশন অ্যাসোসিয়েশন (সিএএমএ) এবং চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাগ্রিকালচারাল মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স (সিএএএমএম)।
প্রদর্শনীটি বর্তমানে শুধু চীনের নয়, পুরো এশিয়ার কৃষিযন্ত্র শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিআইএএমই ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারতসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর শীর্ষ কোম্পানিগুলো তাদের নতুন উদ্ভাবন নিয়ে অংশ নিয়েছে।
ক্যামডার ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্টের প্রধান আলেকজান্ডার সান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বিশ্বব্যাপী কৃষি এখন জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যনিরাপত্তার দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখে। এমন সময়ে সিআইএএমই–এর মতো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেবল প্রযুক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়, বরং এটি কৃষি–উন্নয়ন, জ্ঞান বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সেতুবন্ধন তৈরি করছে। বাংলাদেশের জন্যও এই আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চীনসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কৃষিযন্ত্র ও প্রযুক্তি অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

এবারের প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে বুদ্ধিনির্ভর কৃষিযন্ত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, সেন্সরভিত্তিক সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় ট্রাক্টর, স্মার্ট হারভেস্টিং মেশিনসহ উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে এখানে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাধিক আন্তর্জাতিক সেমিনার ও নীতি–আলোচনা সভা।

উল্লেখ্য, প্রদর্শনীর সমাপনী দিনে আয়োজকরা আগামী বছরের পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির রূপরেখা ঘোষণা করবেন।









