টাইফয়েড টিকাদানে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যম পেশাজীবীদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়নাধীন ‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় ‘ ডিভিশনাল লেভেল কনসালটেশন ওয়ার্কশপ অন টিসিভি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন ২০২৫ উইথ মিডিয়া পিপল’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পর্যায়ের পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ আয়োজনের মাধ্যমে টিসিভি টিকা সংক্রান্ত তথ্য, বার্তা ও জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব সাধারণ জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার জন্য জেলার কর্মরত সরকারি/বেসরকারি ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ৮০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীদেরকে টিসিভি টিকার কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, টিকাদানের সময়সূচি, লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠী এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম, অতিরিক্ত সচিব এবং প্রকল্প পরিচালক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিসিভি টিকাদান কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা জনগণের সর্বস্তরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ইউনিসেফ বাংলাদেশ এই কার্যক্রমে যে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদানকালে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি টিকাদান কর্মসূচিকে সার্বিকভাবে সফল করতে মিডিয়াকর্মী ও সাংবাদিকবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তার বলেন, ইতোমধ্যে পোলিও, কলেরা ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যে সাফল্য অর্জন করেছে, তার পেছনে গণমাধ্যমের অগ্রণী ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমি বিশ্বাস করি, টিসিভি টিকাদান কর্মসূচিও গণমাধ্যমের শক্তিশালী অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমে একটি সফল জাতীয় উদ্যোগে পরিণত হবে।
ময়মনসিংহ জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগে টিকা গ্রহনের হার সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ যা ৯৫ শতাংশের বেশি। এ বিভাগে টিকা গ্রহনের হার শীঘ্রই শতভাগ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত যুগ্মসচিব মো. আলতাফ হোসেন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান) ড. মো. মারুফ নাওয়াজ, ময়মনসিংহ বিভাগ, (ডি.জি.এইচ.এস)-এর পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ, ময়মনসিংহ জেলা তথ্য অফিস-এর পরিচালক জনাব মীর আকরাম, ইউনিসেফ-এর ময়মনসিংহ বিভাগের চিফ ফিল্ড অফিসার মো. ওমর ফারুক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ময়মনসিংহ বিভাগের সমন্বয়ক ডা. নুসরাত আজরিন মহসিন বক্তব্য রাখেন।









