জেমিমাহ রদ্রিগেজের ১২৭ রানের অপ্রতিরোধ্য ইনিংসে রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কেটেছে ভারত। এর আগে দু’বার ফাইনালে খেললেও শিরোপা স্পর্শ করা হয়নি তাদের। প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে সাউথ আফ্রিকার মুখোমুখি হতে চলেছে হারমানপ্রীত কৌরের দল। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে প্রোটিয়ারা। তাতেই নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখতে চলেছে মেয়েদের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক আসরটি।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে আগের ১২ আসরে শিরোপা জিতেছে কেবল তিনদল। অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে সফল, সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। ৪ আসরে শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ডের মেয়েরা। আর নিউজিল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার, ২০০০ সালে।
১৯৭৩ সালে শুরু হওয়া আসরটিতে ভারত এর আগে অংশ নিয়েছে ১০ বার। ২০০৫ ও ২০১৭ সালে ফাইনাল খেলেছিল। সাউথ আফ্রিকায় হওয়ায় ২০০৫ আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯৮ রানে হেরে যায় তারা। ২০১৭ আসরে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ রানে হারে দলটি। এবার ঘরের মাটিতে প্রথম শিরোপা জয়ের সুযোগ ভারত মেয়েদের সামনে।
সাউথ আফ্রিকার মেয়েরা এবারের আসরের আগে ৭ বার অংশ নিয়ে সেমিফাইনালে খেলেছে ৩ বার। ২০০০, ২০১৭ এবং ২০২২ সালে শেষচারে লড়েছিল তারা। তবে সেখানেই থামতে হয়েছিল তাদের।
চলতি আসরে ৭ ম্যাচে ৫টিতে জয় পেয়েছে সাউথ আফ্রিকা। ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থেকে সেমিতে লড়েছিল তারা। যে দুই ম্যাচে হেরেছিল, ৬৯ এবং ৯৭ রানে অলআউট হয়েছিল প্রোটিয়ারা। তবে সেমিফাইনালে তিনশতাধিক রানের সংগ্রহ গড়ে ইংলিশ মেয়েদের হারায় ১২৫ রানে।
ভারত সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছিল টেবিলের চারে থেকে। লিগপর্বের ৭ ম্যাচে ৩ ম্যাচে জয় পেয়েছিল, ৩ হার ও ১ ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে সেমিতে খেলে স্বাগতিক দলটি। শেষচারের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার ৩৩৮ রান তাড়া করে জিতেছে ভারত।
লিগপর্বে ভারত ও সাউথ আফ্রিকার মুখোমুখিতে অবশ্য জিতেছে প্রোটিয়ারা। ভারতের ২৫১ রান সাউথ আফ্রিকা তাড়া করে ৩ উইকেট ও ৭ বল হাতে রেখে।
দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ভারত। এখন পর্যন্ত একে অন্যের বিপক্ষে খেলেছে মোট ৩৪ বার। ২০টিতে জিতেছে ভারত, প্রোটিয়া জয় পেয়েছে ১৩টিতে। আর এক ম্যাচে কোনো ফল আসেনি।
ঘরের মাঠ নাভি মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে রোববার শিরোপা মঞ্চে সাউথ আফ্রিকার লড়বে ভারতের মেয়েরা। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সাড়ে তিনটায়। ভেন্যুটিতে ৩০,০০০ হাজারের বেশি দর্শকের চুপ করিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি কন্ডিশনের সাথেও মানিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জ থাকবে প্রোটিয়াদের সামনে। চলতি বিশ্বকাপে এই ভেন্যুতে কোনো ম্যাচই খেলেনি সাউথ আফ্রিকা। অন্যদিকে ভারত এখানে সেমিফাইনালসহ টানা ৩ ম্যাচে খেলেছে।
চলতি আসরে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনআপে বড় শক্তি লরা উলভার্ট। এখন পর্যন্ত আসরের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক তিনি। ৩ ফিফটি ও ১ সেঞ্চুরিতে ৮ ম্যাচে ৪৭০ রান করেছেন সাউথ আফ্রিকা ওপেনার। তার পাশাপাশি তাজমিন ব্রিটস (২১২) এবং মারিজানে ক্যাপও (২০৪) ফর্মে আছেন।
ব্যাট হাতে অবশ্য ভারতের মেয়েরাও পিছিয়ে নেই। আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ভারতের স্মৃতি মান্দানার। ১ সেঞ্চুরি ও ২ ফিফটিতে ৮ ম্যাচে ৩৮৯ রান করেছেন তিনি। এছাড়া প্রতিকা রাওয়াল ৩০৮ রান করেছেন। পাশাপাশি জেমিমাহ রদ্রিগেজ (২৬৮) ও হারমানপ্রীত কৌর (২৪০) আছেন ছন্দে।
বল হাতে আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী দিপ্তী শর্মাকে মোকাবেলায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে প্রোটিয়াদের। এই অফস্পিনার ১৭ উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া নাল্লাপুরেড্ডি শ্রী চরণি ১৩ উইকেট শিকার করেছেন। প্রোটিয়া বোলাদের মধ্যে মারিজানে ক্যাপ ও ননকুলুলেকো মালবা সেরা ছয়ে। দুজনেই ১২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
দু’বার শিরোপার কাছে গিয়েও ট্রফি জিততে না পারার দুঃস্মৃতি নিয়ে বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের ফাইনালে উঠেছে ভারত। ঘরের মাঠে শিরোপামঞ্চে এগিয়ে থাকবে তারা। অন্যদিকে ছেড়ে কথা বলবে না প্রোটিয়ারাও। প্রথমবার শিরোপা মঞ্চে তারা, হাতছাড়া করতে চাইবে না বিশ্বজয়ের সুযোগ।









