কেন উইলিয়ামসনের চোট যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। আইপিএল, ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ঘরের মাঠে সম্প্রতি টি-টুয়েন্টি সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। বারবার চোটাক্রান্ত ব্ল্যাক ক্যাপস তারকা কবে মাঠে ফিরবেন, তা নিয়ে রয়েছে কৌতূহল। কোচ গ্যারি স্টেড অবশ্য শুনিয়েছেন ইতিবাচক খবর। মাউন্ট মঙ্গানুইতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে কেন সুস্থ হয়ে উঠবেন, আশার বাণী কোচের।
আইপিএল খেলতে গিয়ে গত বছরের মার্চে হাঁটুর চোটে পড়েছিলেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপের মাঝে তার খেলা নিয়ে ছিল সংশয়। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলতে পারলেও আসরের মাঝে আবারো চোটে পড়েন। কয়েকটি ম্যাচ ড্রেসিং রুমে বসে দেখেন।
বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে নয় মাস পর টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে ফেরেন উইলিয়ামসন। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয়টিতে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন। পরে সিরিজ থেকেই ছিটকে যান।
গ্যারি স্টেড বলছেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী, সে সুস্থ হয়ে উঠবে। অনুশীলনে ফিরে আসার আগে সম্ভবত আরও এক-দুইদিন সময় পাবে। এটা ছোটখাট চোট ছিল, যা ইতিবাচক দিক। সামনে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে আমরা চাইনি চোট আরও বাড়ুক। সে অবশ্যই একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে তাকে দলে রাখার জন্য সকল সুযোগ দিয়েছি।’
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে উইকেটরক্ষক ব্যাটার টম ব্লান্ডেলের ফিট হওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদী স্টেড। গত বছরের ডিসেম্বরে নেপিয়ারে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডের পর নিউজিল্যান্ডের হয়ে তিনি আর খেলেননি। বর্তমানে চোট থেকে সুস্থ হতে কাজ করছেন। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডস সুপার স্ম্যাশে নকআউটের খেলা দিয়ে মাঠে ফিরতে পারেন।
ব্লান্ডেল মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের জন্য ফিট না হলে উইকেটরক্ষক হিসেবে ক্যাম ফ্লেচার অথবা কেন উইলিয়ামসনের চাচাতো ভাই ডেন ক্লিভার দলে আসতে পারেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের হয়ে খেলেন ক্লিভার। ফ্লেচারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। ক্লিভারের এখনো হয়নি টেস্ট অভিষেক।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত দুই ম্যাচ সিরিজে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে সাউথ আফ্রিকা। ১৪ সদস্যের স্কোয়াডে সাত ক্রিকেটারেরই হয়নি টেস্ট অভিষেক। সিনিয়র খেলোয়াড়রা ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি লিগে খেলার জন্য জাতীয় দলের সঙ্গে থাকবেন না। নিউজিল্যান্ডের কোচ অবশ্য সফরকারীদের হাল্কাভাবে নিতে নারাজ। প্রতিপক্ষের ক্রিকেটারদের ভালো করার ক্ষুধা তাদের বিপজ্জনক দল হিসেবে পরিণত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন।
‘আমি সাউথ আফ্রিকার একটা বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারি। তারা যে দলটি এখানে আনবে, তাদেরও অভিজ্ঞতা থাকবে। যারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছে, তারা কঠিন হবে। তাদেরও প্রমাণ করার জন্য একটা কারণ থাকবে- আরে! আমাদের এখানে থাকা, টিকে থাকা উচিৎ। আমি মনে করি এটি তাদের পূর্ণ শক্তির দল থাকার মতো বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। তাই আমরা অবশ্যই তাদের হালকাভাবে নেব না। আমরা কখনো টেস্ট সিরিজে তাদের হারাতে পারিনি। তাই আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’







