ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী টাটা গ্রুপের কর্ণধার রতন টাটা মারা গেছেন। বুধবার ৯ অক্টোবর রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮৬ বছর বয়সি এই শিল্পপতি। তিনি ১৯৯০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং অক্টোবর ২০১৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এর দাতব্য ট্রাস্টের প্রধান ছিলেন।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইম ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি। এজন্য নিয়মিত চেকআপেও থাকতেন।
১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন রতন টাটা। নেভাল টাটার পুত্র ছিলেন তিনি। টাটা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা জামশেদজি টাটার পৌত্র রতন।
রতন টাটা মুম্বাইয়ের কেম্পিয়ন স্কুলে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পরে তিনি ক্যাথেড্রাল অ্যান্ড জন কনন স্কুলে শিক্ষা শেষ করেন। এরপর তিনি পর তিনি ১৯৬২ সালে কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্রাকচার ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্কিটেচার বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়তে বাণিজ্য ও অ্যাডভেঞ্চেড ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন।
ষাটের দশকে টাটা গোষ্ঠীতে পরিচালন বিভাগে দায়িত্বলাভ করেন রতন। ১৯৯১ সালে চেয়ারম্যান হন। ২০১২ সাল পর্যন্ত পরিচালনার দায়িত্বভার সামলেছেন তিনি। রতন টাটা হলেন নেভাল টাটার ছেলে, যিনি ছিলেন টাটা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জামসেদজি টাটার দত্তক নেয়া নাতি। ১৯৪৮ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায় এবং তাই তিনি তার দাদি, নওয়াজবাই টাটার কাছে বেড়ে ওঠেন।
তিনি ১৯৬১ সালে প্রথম টাটা গ্রুপের স্টিল কোম্পানিতে যোগ দেন। টাটা গ্রুপের পঞ্চম চেয়ারম্যান হন তিনি। টাটা গ্রুপে মাত্র ৬ জন চেয়ারম্যান রয়েছেন, যার মধ্যে ২ জন টাটা পরিবারের সদস্য নন।
টাটা গ্রুপ সর্বপ্রথম বিতর্কে পড়েছিল যখন তারা কোম্পানি থেকে তাদের ষষ্ঠ চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রীকে বরখাস্ত করে। ২০০৮ সালে রতন টাটা মাত্র ১ লাখ টাকার বিনিময়ে বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা গাড়ি ‘ন্যানো’ চালু করেছিলেন। আসলে রতন টাটা এই স্বপ্নটি দেখেছিলেন ১৯৯৭ সালে। যাতে একজন সাধারণ মানুষ মাত্র ১ লাখ টাকায় একটি গাড়ি কেনার স্বপ্নপূরণ করতে পারেন।
রতন টাটা ছিলেন চিরকুমার। ২০১১ সালে একটি সাক্ষাৎকারে রতন টাটা বলেন, তার জীবনে চারবার বিয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা কারণে পিছিয়ে আসতে হয় তাকে। এর মধ্যে একটি ক্ষেত্রে তার দাদিও জড়িত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আর বিয়ে করা হয়নি টাটা গ্রুপের প্রধান ব্যক্তিটির। তবু তার এক প্রেমের কথা আজও অনেকের মুখে মুখে ঘোরে। সেই প্রেম ছিল ষাটের দশকের এক বলিউড অভিনেত্রীর সঙ্গে।
২০০০ সালে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান পান রতন টাটা। ২০০৮ সালে পান ‘পদ্ম বিভূষণ সম্মান’। মহারাষ্ট্র, আসাম সরকারও তাকে সম্মান প্রদান করে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ, লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স, আইআইটি বম্বে, ইয়েল ইউনিভার্সিটি, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, রাজা তৃতীয় চার্লসের থেকেও বিশেষভাবে সম্মানিত হন।









