ভারতের উত্তর প্রদেশের হাথরসে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে নারী ও শিশুসহ ১২১ জন নিহত হয়েছেন। ঐ অনুষ্ঠানে ভোলে বাবা নামে পরিচিত এক ধর্মপ্রচারক তার অনুগামীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেই অনুষ্ঠান শেষে তাবু থেকে বের হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বেশ আলোচনায় এসেছেন ভোলে বাবা।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্যা হিন্দু জানিয়েছে, ভোলে বাবার আসল নাম সুরজ পাল। তিনি উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলার পাটিয়ালি তহসিলের বাহাদুর নগর গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, সুরজ পাল ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিটে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল ছিলেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময়ই আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকে পড়ায় চাকরি থেকে অবসর নেন। পরে নতুন নাম ব্যবহার করে ধার্মিক জীবনযাপনের বিষয়ে জনসাধারণকে উপদেশ দিতে শুরু করেন।

তিনি নিজেকে নারায়ণ সাকার হরির একজন শিষ্য বলে দাবি করতেন। গ্রামে সুরজ পালের ‘নারায়ণ সাকার হরি’ নামের একটি আশ্রম আছে যা প্রায় ৩০ একর জুড়ে বিস্তৃত। স্থানীয়রা জানান, ওই আশ্রমে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার অনুসারী সমাবেত হতেন। সুরজ পালের রয়েছে বিশাল গাড়িবহর এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি মিডিয়া থেকে সবসময় দূরেই থাকেন।
তিনি সাধারণত একটি সাদা কোট, ট্রাউজার এবং রঙিন সানগ্লাস পরেন। তার নারী অনুসারীদের অনেকেই সাধারণত গোলাপী পোশাক পরেন এবং তাকে ভোলে বাবা হিসেবে পূজা করেন। তার স্ত্রী প্রায়শই তার সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন এবং তাকে “মাতাশ্রী” বলে সম্বোধন করা হত। ২০১৪ সালে তিনি বাহাদুর নগর থেকে ময়নপুরীর বিছওয়াতে চলে যান। তিনি সেখান থেকেই প্রচারণা চালিয়ে যেতেন।
জানা গেছে, ভোলে বাবার নামে যৌন নির্যাতনের অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। আগ্রা, ইটাওয়া, কাসগঞ্জ, ফারুখাবাদ এবং রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা সত্ত্বেও তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রচার করে যেতেন। ১৯৯৭ সালে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কারাদণ্ড হয় তার।









