ভারতের রাজনীতির নতুন আলোচনার নাম মহুয়া মৈত্র। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঘটনার জন্ম দিয়ে এর আগেও রাজনীতির আলোচনায় সরব ছিলেন তিনি। সংসদ এবং বিভিন্ন টকশোতে কড়া বক্তব্য, বিজেপির সাংসদদের সাথে দ্বন্দ্ব আবার কখনো সামজিক মাধ্যমে কমেন্ট যেন তার নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছিল। সম্প্রতি শ্যাম্পেনের গ্লাস ও চুরুট মুখে কিছু ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হলে নতুন আলোচনা শুরু হয় তাকে নিয়ে।
১৯৭৬ সালের ৫ মে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন মহুয়া মৈত্র। ১৬ বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ম্যাসাচুসেটসে মাউন্ট হলিয়োক কলেজ থেকে অর্থনীতি ও গণিত বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে একজন ব্যাংকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি লন্ডনের জে.পি. মরগ্যান ব্যাংকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদেও কর্মরত ছিলেন।

রাজনীতি যোগদান
কর্মজীবনে অনীহা দেখা দিলে ২০০৮ সালে চাকরি ছেড়ে ভারতে ফিরে আসেন মহুয়া, নাম লেখান রাজনীতিতে। ভারতীয় কংগ্রেস এর প্রধান রাহুল গান্ধী ছিলেন তার বন্ধু। রাহুলের অনুপ্রেরণায় ২০০৯ সালে তার পার্টিতে যোগ দেন মহুয়া।
২০১০ সালে কলকাতা থেকে একটি ফ্লাইটে চড়ে দিল্লি যাচ্ছিলেন মহুয়া। একই ফ্লাইটে দিল্লির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ওই ফ্লাইটেই মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে প্রথমবারের মতো কথা হয় মহুয়ার। এরপরই কংগ্রেস ছেড়ে ২০১০ সালে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন মহুয়া।
তৃণমূল কংগ্রেসের হয়েই ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে করিমপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ নির্বাচিত হন সাবেক এই ব্যাংকার। ২০১৯ সালেও করিমপুর থেকে নির্বাচিত হন তিনি। বিভিন্ন টকশোতে মহুয়ার বক্তব্য অল্প কয়েকদিনেই তাকে বিপুল পরিচিতি এনে দেয়।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে নগদ ২ কোটি রুপির বিনিময়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আদানী গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলাসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছেন মহুয়া।
জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে সংসদের এথিক্স কমিটি ২৬ অক্টোবর সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মহুয়ার রাজনৈতিক জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে বলেই মনে করছেন অনেকে।







