সিঙ্গাপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সদ্য প্রয়াত ভারতের শ্রোতাপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গ চাইতেন তার শেষ নিঃশ্বাসের পর ব্রহ্মপুত্র নদে বিলিন হয়ে যেতে! তিনি নিজের শেষ ইচ্ছের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, “মরে গেলে ব্রহ্মপুত্রে আমাকে দাহ করা উচিত’!
সেই সাথে মৃত্যুর পর একটি গানও চালানোর কথা বলেছিলেন জুবিন। “আমি মরলে, শুধু ‘মায়াবিনী রাতের বুকে’ (অসমিয়া ভাষার গান) গানটি চালানো হবে। তাই এই গানটি আমার, তোমার এবং সবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
এমন ইচ্ছের কথা ২০১৯ সালে আসামের গুহাটির বি. বড়ুয়া কলেজের এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বলেছিলেন জুবিন। যিনি প্রায় ৪০টি ভাষায় ৩৫ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন।
এটি এক ভয়ংকর সুন্দর ইচ্ছা— যেটি গভীর ভালোবাসা, বিয়োগ এবং আত্মীয়ত্বকে ঘিরে কথা বলে।
যে নদী শতাব্দী ধরে আসামের বেদনার সাক্ষী, ব্রহ্মপুত্র; সে নদীর পাড়ে কেন নিজের দাহের কথা বলেছিলেন জুবিন- তা তার ঘনিষ্ঠরাই বলতে পারবেন। তবে অনেকেই বলছেন, ব্রহ্মপুত্রকে ভীষণ পছন্দ করতেন জুবিন। বার বার তিনি ব্রহ্মপুত্রের কাছে ফিরে এসেছেন!
নিজের দেহকে ব্রহ্মপুত্রে সমর্পণ করা মানে সেই নদীর কাছে ফিরে যাওয়া, এ ভাবনা থেকেই হয়তো নিজের দাহের জন্য ব্রহ্মপুত্রকে বিশেষ পছন্দের জায়গায় রেখেছিলেন জুবিন।
আর ‘মায়াবিনী রাতের বুকে’ গানটি জুবিন নিজেই রচনা ও সুরারোপ করেন। বিচ্ছেদের ব্যথা-ভরা গানের কথা এমন এক আত্মার সন্ধান বর্ণনা করে, যে সংযোগ খুঁজছে এমন এক জগতের মধ্যে যা কুয়াশার মতো উধাও হয়ে যায়! এই গানটি ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দাগ’ চলচ্চিত্রের একটি গান। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন জুবিনের ছোট বোন জুংকি। যিনি ২০০৩ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ছোট বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কখনোই মেনে নিতে পারেননি জুবিন।
জুবিন, একটি নাম যা আসাম সীমা ছাড়িয়ে পুরো ভারতবর্ষে অনুরণিত। ১৯৯২ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ‘অনামিকা’ অ্যালবামে আত্মপ্রকাশ করে তার সংগীত যাত্রা শুরু হয়। সেই অ্যালবাম কেবল সাড়া ফেলেনি, এটি আসামের যুবসমাজের সাংস্কৃতিক সংগীতচিহ্নে পরিণত হয়েছিল।
পরে শুধু আসাম নয়, হিন্দি গানেও বেশ সুনাম করেন জুবিন। শূন্যের মাঝামাঝি সময়ে বলিউডের ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমাতে ‘ইয়া আলি’ গানটি তাকে সবমহলে জনপ্রিয় করে তুলে। পরে পশ্চিম বঙ্গের বাংলা সিনেমার গানেও তুমুল জনপ্রিয়তা পান গায়ক জুবিন। এমনকি ২০১৩ সালে অনন্ত জলিলের ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ সিনেমাতেও ‘ঢাকার পোলা’ শিরোনামের গানে কণ্ঠ দেন জুবিন। টাইমস অব ইন্ডিয়া









