দুবাইভিত্তিক রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ইমতিয়াজ ডেভেলপমেন্টস তাদের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প ‘দ্য সিম্ফনি বাই ইমতিয়াজ’ উদ্বোধন করেছে। ১ বিলিয়ন দিরহাম ব্যয়ে নির্মিত এই আবাসিক বাণিজ্যিক ল্যান্ডমার্কটি বিশ্বখ্যাত যুক্তরাজ্য ভিত্তিক জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস–এর সহযোগিতায় নকশা করা হয়েছে। এটি কোম্পানির ৩ বিলিয়ন দিরহামের মেইদান পোর্টফোলিওর সবচেয়ে বড় প্রকল্প।
সংবাদমাধ্যম বিজনেস টুডে ডট মি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মেইদানে ৪ হাজার ২৩৪ বর্গমিটারের জমিতে নির্মিত ‘দ্য সিম্ফনি’ হবে একটি ভাস্কর্যনির্ভর মিক্সড-ইউজ ডেভেলপমেন্ট, যেখানে থাকবে আল্ট্রা-লাক্সারি রেসিডেন্স, অফিস এবং রিটেইল ইউনিট। নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে আমিরাতের ঐতিহ্যবাহী ‘সাদু বুননও’ ‘তাল্লি এমব্রয়ডারি’–র জ্যামিতিক নকশা, যা আধুনিক ও প্রবাহিত স্থাপত্যশৈলীতে রূপ পেয়েছে। ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতধর্মী নকশার এই মিশ্রণই প্রকল্পটিকে আলাদা করেছে।
ডাউনটাউন দুবাই থেকে মাত্র ১০ মিনিট দূরের এই প্রকল্প থেকে দেখা যাবে দুবাইয়ের স্কাইলাইনের প্যানোরামিক ভিউ। থাকবে সম্পূর্ণ প্রাইভেসি ও উচ্চমানের বিনোদন, ইকুয়েস্ট্রিয়ান এবং স্পোর্টস সুবিধার সহজ প্রাপ্যতা। এখানে ফ্ল্যাটের দাম শুরু ২০ লাখ দিরহাম থেকে, আর পেন্টহাউসের দাম সর্বোচ্চ ২ কোটি দিরহাম পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মেইদানে বিলাসবহুল আবাসনের শীর্ষস্থানীয় প্রকল্প হিসেবে একে প্রতিষ্ঠিত করছে।
ইমতিয়াজ ডেভেলপমেন্টসের প্রধান নির্বাহী মাসিহ ইমতিয়াজ প্রকল্প উদ্বোধনকে কোম্পানির নতুন উত্তরাধিকার সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দ্য সিম্ফনি শুধু একটি নতুন প্রকল্প নয়-এটি আমাদের পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা। জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টসের সঙ্গে কাজ করে আমরা দুবাইয়ের লাক্সারি লিভিংয়ে নতুন মান যুক্ত করেছি।
জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস-এর পরিচালক জিয়ানলুকা রাকানা বলেন, দুবাই উদ্ভাবনে বিশ্বাসী একটি শহর। দ্য সিম্ফনি সেই চেতনা ধারণ করেছে। উন্নত নকশা ও সাংস্কৃতিক গভীরতার সমন্বয়ে এটি ভবিষ্যতের নগরজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক বাসস্থান।
জানা গেছে, স্টেইনলেস স্টিল ও কংক্রিটের মডুলার কাঠামোর এই টাওয়ারে থাকবে একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট। ধাপে ধাপে নেমে আসা টেরেস ডিজাইন পুরো ভবনটিকে ভিন্নমাত্রা দেবে। ভবনের বাইরের জালাকৃতি নকশা নেয়া হয়েছে আমিরাতি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ত্রিমাত্রিক জ্যামিতি ও সূক্ষ্ম নকশা থেকে। ভবনের ল্যাটিস কাঠামোর আলো জ্বালাবে ফাসাদের ওপর বসানো সোলার প্যানেল।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সূর্যাস্তের পর হালকা অ্যাম্বার রঙের আলো ভবনের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ধাতব নকশাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।
৪২ তলা সিম্ফনি টাওয়ারের রেন্ডারে দেখা গেছে নিচের তলায় স্বচ্ছ কাচের গ্লেজড ফিনিশ,ওপরের তলাগুলো ইনসেট ব্যালকনি দিয়ে ঘেরা,আর একদম ওপরে থাকবে সুইমিং পুল।
সুইমিং পুলের পাশ থেকে ভবনটি আরও উপরে উঠবে, যেখানে ওপেন-এয়ার প্রাইভেট টেরেস ও পুল স্পেস থাকবে। পুরো ফাসাদকে ঘিরে থাকবে কাচ ও ব্রোঞ্জ-টোন প্যানেল, যাতে প্রাকৃতিক আলো সহজে প্রবেশ করতে পারে। অ্যাপার্টমেন্টের দু’পাশে দেওয়া হয়েছে ছায়া দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা ব্যালকনি।
জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস জানায়, এক্সোস্কেলেটন কাঠামো একদিকে ভবনকে দৃঢ় করবে, অন্যদিকে সূর্যের তাপ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব আবহ তৈরি করবে। এতে বাইরের টেরেসগুলোও সারা বছর ব্যবহারযোগ্য হবে।
পরিবেশগত প্রভাব কমাতে ভবন নির্মাণে ব্যবহার করা হবে রিসাইকেলড স্টিল ও লো-কার্বন কংক্রিট। পাশাপাশি থাকবে গ্রে-ওয়াটার রিসাইক্লিং ও খরা-সহনশীল ল্যান্ডস্কেপিং, যা পানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি চীনের শেনঝেনে তাদের ‘রিপলিং’ চ্যারিটি হেডকোয়ার্টারের নতুন ছবি প্রকাশ করেছে এবং হাংঝাউয়ে একটি বাঁকানো ফুটব্রিজের ডিজাইনও উন্মোচন করেছে।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং ২০২৯ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কাজ সমাপ্ত হবে। বিশ্বের উচ্চসম্পদশালী ক্রেতা এবং ডিজাইন–কেন্দ্রিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দুবাইয়ের নতুন এই আইকনিক ঠিকানা ব্যাপক চাহিদা তৈরি করবে বলে আশা করছে ইমতিয়াজ ডেভেলপমেন্টস।









