বাসা বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমণ্ডিতে একটি বাসায় র্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট এবং ছাত্র পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন- ফরহাদ বিন মোশারফ (৩৩), ইয়াছিন হাসান (২২), মোবাশ্বের আহাম্মেদ (২৩), ওয়াকিল মাহমুদ (২৬), আবদুল্লাহ (৩২) ও গাড়িচালক সুমন (২৯)।
সেসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত র্যাব লেখা কালো রঙের দুটি জ্যাকেট, তিনটি কালো রঙের র্যাব লেখা ক্যাপ, দুটি মাইক্রোবাস, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি লোহার তৈরি ছেনি, একটি লাল রঙের পুরোনো স্লাই রেঞ্জ ও নগদ ৪৫ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
র্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট ও ছাত্র পরিচয়ে এমন দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় নগরবাসী কীভাবে বুঝবে কোন অভিযান ভুয়া আর কোন অভিযান সত্য? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধানমণ্ডির ডাকাতির ঘটনায় সেখানকার বাসার মালিক ৯৯৯-এ কল করেন। এরপর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ যায়। আমরা জনগকে বারবার অনুরোধ করছি, আপনাদের সামনে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ কল করবেন।
চেকপোস্ট-টহল জোরদার করা হলেও বাসা-বাড়িতে এভাবে ডাকাতির ঘটনা মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। এটি গোয়েন্দা ব্যর্থতা নাকি চেকপোস্ট-টহলে যারা দায়িত্বরত তাদের গাফিলতি? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি তালেবুর রহমান বলেন: চলমান রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ডিএমপি বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ সময় টহল জোরদার, কৌশলগত জায়গায় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া দু’একটি যে ঘটনা ঘটছে সেগুলোর সঙ্গে সঙ্গে উদঘাটন করে আসামি গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে কেউ যদি অপরাধ করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলো উদঘাটন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, গত বছরের শেষদিকে অলংকার নিকেতন জুয়েলার্স থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভরি স্বর্ণ চুরি হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলাও হয় তেজগাঁও থানায়। এরপর ২৬ মার্চ ভোরে ধানমণ্ডিতে ওই জুয়েলার্সের মালিকের বাসায় ডাকাতদল ডাকাতি করে। দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ছয় সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ।
ডিসি মাসুদ আলম বলেন, ডাকাতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ডাকাতিতে তাদের ২৫ থেকে ৩০ জনের টিম জড়িত। তাদের মূল পরিচয় উদঘাটন করে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার ছয় ডাকাত এলোপাতাড়ি তথ্য দিয়েছেন, তাদের রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।









