ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষরা এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে দেখা যাচ্ছে শত শত পোস্ট। সাধারণ মানুষ থেকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের মধ্যেও আলোড়ন তুলেছে ঘটনাটির ভয়াবহতা।
একজন মানুষকে দিনের আলোয় শতশত মানুষের সামনে পিটিয়ে, কুপিয়ে, মাথা ও বুকে বিশাল পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা এবং সেই মৃতদেহের উপর লাফিয়ে উল্লাস করার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে মানুষের মধ্যে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় নির্মাতা আশফাক নিপুন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ঘটনাকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ ‘লিটমাস টেস্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন।
নিপুন লিখেছেন, “চাঁদাবাজি/ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ/পার্সেন্টেজ যেই নাম আর কারণই দেয়া হোক না কেন… মিটফোর্ড হাসপাতালের ভেতরে প্রকাশ্য দিবালোকে লাল চাঁদ সোহাগকে যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হল, এই ভয়াবহ ঘটনা এবং ভিডিও লিটমাস টেস্ট হয়ে থাকল অদূর ভবিষ্যতে ভোটের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবেন তাদের জন্য।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন-“আপনারা কি এই চাঁদাবাজদের আরো ক্ষমতায়িত করবেন? নাকি সাধারণ মানুষকে ক্ষমতায়িত করবেন? আপনারা কি এই চাঁদাবাজদের সেবা করবেন? নাকি সাধারণ মানুষের সেবা করবেন?”
নিপুন আরো বলেন,“আপনারা কি ‘সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই, সে যে দলেরই হোক না কেন’ বলে আইন এবং বিচারের শাসন নিশ্চিত করবেন? নাকি ঘটনার পর ‘অমুক সন্ত্রাসী আমার দলের কেউ না’ বলে দায় সারবেন?”
পোস্টের শেষ দিকে এসে নিপুন বলেন, “আমরা ‘রোগী মরিবার পরে ডাক্তার সাহেব আসিলেন’ দেখতে চাইনা আর। এই দেশেরই প্রবল প্রতাপশালী সরকার প্রধান, তার পরিবারসহ লেজ তুলে পালাতে বাধ্য হয় যখন সাধারণ মানুষ লাল কার্ড দেখায়। মানুষ যেন আবার লাল কার্ড না দেখায়, সেই ভয়টা রাখেন। সেভাবে কাজ করেন।”
সোহাগ হত্যাকারী গ্রেপ্তারকৃতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিও জানান নিপুন।









