নির্বাচন আসলেই আরপিও শব্দটি আমরা শুনে থাকি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আরপিও আসলে কী? আরপিও হচ্ছে দেশের নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়, সেগুলো আরপিওর অধীনেই হয়ে থাকে।
ইংরেজি শব্দ আরওপির পূর্ণরূপ হচ্ছে- দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার। বাংলায় একে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ বলা হয়ে থাকে।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনটি অ্যাক্ট না হয়ে অর্ডার কেন হলো? ১৯৭২ সালে যখন এ আইনটি জারি করা হয়েছিল, তখন স্বাধীনতার পর আনুষ্ঠানিক সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়নি। সেজন্য নির্বাচন সংক্রান্ত আইনটি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করা হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবার নির্বাচন পরিচালনার জন্য এই আরপিও তৈরি করা হয়।
১৯৭২ সালের পর বহুবার অধ্যাদেশটি সংশোধন করা হয়েছে। প্রত্যেকবার নির্বাচনকে যুগোপযোগী করতে আরপিওতে নানা বিষয় সংযোজন বিয়োজন করা হয়।
সর্বশেষ সংশোধিত আরপিওতে জোট করেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বাধ্যবাধকতা, ফেরারি আসামির প্রার্থিতা নিষিদ্ধ, প্রার্থীদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণী দেয়া বাধ্যতামূলক করা, ‘না ভোট’ ফেরানো, এআই ও গুজবের অপব্যবহারকে অপরাধ ঘোষণা, সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় ফিরিয়ে আনা, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার–সম্পর্কিত বিধান বিলুপ্ত এবং ব্যয়ের সীমা ও স্বচ্ছতার কড়াকড়ি যুক্ত করা হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে এবার নির্বাচনের রূপ ও নিয়ম দুটোই বদলে যাচ্ছে।








