সুদানে প্রস্তাবিত বেসামরিক সরকারে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব কে করবে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে এমন প্রশ্নে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)।
বিবিসি জানায়, উভয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫ জন নিহত ও প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছে। সুদানের রাজধানী খার্তুমসহ বেশ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।
সুদানের আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ, সেনাপ্রধানের বাসভবন ও খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে আধাসামরিক বাহিনী। এছাড়া সেনাবাহিনীই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আরএসএফ। একইসঙ্গে তারা উত্তরাঞ্চলীয় শহর মেরোবি ও পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর এল-ওবেইদের বিমানবন্দরও দখলে নেওয়ার দাবি করেছে।
তবে সেনাবাহিনী বলেছে, শুরুতে কয়েকটি অবস্থানে সেনাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালিয়েছে আরএসএফ।
সুদানের নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান বলেছেন, তিনি তার ডেপুটি এবং আরএসএফের অধিনায়ক মোহামেদ হামদান দাগালোর সাথে আলোচনা করতে ইচ্ছুক।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল বুরহান ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সুদানের বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতাসীন হন। এরপর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক তোলপাড় চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় সুদানের রাজনৈতিক দলগুলো এর আগে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের সাথে ক্ষমতা-ভাগাভাগির এক চুক্তিতে সাক্ষর করেছিল। তবে এ দুটি বাহিনীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল।
ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সেই উত্তেজনা এখন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিলো। চলমান এই লড়াই শেষ পর্যন্ত সর্বাত্মক সংঘাতে রূপ নিলে সুদানে বেসামরিক শাসনে ফেরার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







