বরাবরের মতো এবারও আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তবে নির্বাচনের আলোচনায় বড় অংশজুড়ে থাকে এর খরচ এবং অর্থ সংগ্রহের উৎস নিয়ে। কারণ এই নির্বাচনে লড়তে মোটা অংকের অর্থের প্রয়োজন হয়। প্রার্থী চাইলে খরচের যোগান নিজেই দিতে পারেন। তবে সেটা সম্ভব না হলে বেশকিছু উৎসের ওপর তাদের নির্ভর করতে হয়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের খরচের বড় অংশই আসে ব্যক্তিগত দাতা ও রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গ্রুপ থেকে। সরকারি তহবিলের অর্থ ব্যয়ে নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় মূলধারার প্রার্থীরা গত কয়েক বছর ধরে এড়িয়ে গেছেন এই খাতটি।
এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প, কে কত সংগ্রহ করলেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের নির্বাচন প্রভাবিত করতে সক্রিয় ১১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক স্বার্থ গোষ্ঠী। যারা এরই মধ্যে এই নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনসিক্রেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তথ্যানুসারে, টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন, তহবিল সংগ্রহের খ্যাপাটে প্রচেষ্টা এবং দ্বারে দ্বারে ভোটারদের কাছে যাওয়াসহ বিভিন্ন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ ৭৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
ওপেনসিক্রেটস বলছে, এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিগুলোর থেকে এসেছে। মোট অর্থের ৯২ শতাংশই বিনিয়োগ করা হয়েছে এই উৎস থেকে।
অর্থ সংগ্রহের উৎস
প্রার্থীদের তহবিলে কারা দান করতে পারবেন, কারা পারবেন না, এ নিয়ে ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিয়ম রয়েছে। শুধু মার্কিন নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারীরাই পার্টি বা প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর তহবিলে দান করতে পারেন।
এর ফলে বিদেশি নাগরিকরা কোনোভাবেই নির্বাচনী তহবিলে দান করতে পারবেন না। দানের সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ঠিকাদার, করপোরেশন, জাতীয় ব্যাংক, শ্রমিক ইউনিয়ন ও অলাভজনক সংস্থাগুলোও ফেডারেল নির্বাচনে প্রার্থী বা দলগুলোর তহবিলে সরাসরি অবদান রাখতে পারবে না।
ওপেনসিক্রেটসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর তহবিল সংগ্রহকারী পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এসব কমিটির মধ্যে মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ‘অ্যাক্টব্লু’ ও রিপাবলিকানদের ‘উইনরেড’ অন্যতম। এই দুটি কমিটি প্রায় ১১ দশমিক ৩ কোটি ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছে এবং অন্যান্য কমিটিতে বিতরণ করা হয়েছে সাড়ে ৪০০ কোটি ডলার।
কোনখাতে এই অর্থ ব্যয়
কোটি কোটি ডলার খরচ হাতে থাকায় সেটা কিভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় করা হবে, সে ব্যাপারে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয় প্রার্থীর প্রচার দল এবং প্রেশার গ্রুপকে। নির্বাচন যেহেতু খুব কাছাকাছি চলে এসেছে এবং বিজয়ের অনেকটাই নির্ভর করবে সুইং স্টেটগুলোর মুষ্টিমেয় ভোটের ওপর। ফলে এখন প্রচার দলগুলো সেখানেই তাদের বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করছে।
এই রাজ্যগুলো রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে প্লাবিত হচ্ছে। নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট টানতে প্রচারকারীরা ভোটারদের কল দিচ্ছেন, কোথাও কোথাও ভোট দিতে রাজি করাতে প্রচার দলের সদস্যরা সরাসরি ভোটারদের বাসায় গিয়ে হাজির হচ্ছেন।
২০২০ সালের নির্বাচন থেকে নির্বাচনি ব্যয়ের ব্যাপারে একটি ধারণা পাওয়া যায়।
ওপেনসিক্রেটস এর দেয়া তথ্য অনুসারে, চার বছর আগে প্রায় ৫৬ শতাংশ ব্যয় ছিল গণমাধ্যমে, ১০ শতাংশ তহবিল সংগ্রহে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ প্রচারে এবং প্রচার দলের বেতনে। বাকি অর্থের ছয় শতাংশ প্রশাসনে, চার শতাংশ কৌশল নির্ধারণ এবং গবেষণায় ব্যয় হয়েছিল। অবশিষ্ট ব্য়য়কে ‘অশ্রেণীবিন্যাসযোগ্য’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের প্রচারাভিযানের ব্যয়ও একই ধরণ অনুসরণ করবে।









