নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র জয়টি ছিল, গেল ৫ নভেম্বর অকল্যান্ডে প্রথম টি-টুয়েন্টিতে। তবে সে সিরিজে কিউইরা জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে। এরপর দেড় মাসে পুরো সফর জুড়ে আর কোন জয়ের দেখা পায়নি ক্যারিবীয় দল। কিউইদের কাছে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ এবং সবশেষ তিন ম্যাচ টেস্টে ২-০তে হেরেছে উইন্ডিজ। মাউন্ট মঙ্গানুইতে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের রেকর্ডে ভর করে বড় সংগ্রহ গড়ে নিউজিল্যান্ড। পরে জ্যাকব ডাফি-আজাজ পাটেলের বোলিং তাণ্ডবে খেই হারায় সফরকারী দল। শেষপর্যন্ত ৩২৩ রানের বড় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।
গত বৃহস্পতিবার টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক ল্যাথাম। নেমে দেড় দিনে ৮ উইকেটে ৫৭৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেন তিনি। জবাবে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ৪২০ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাতে ১৫৫ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে কিউইরা। দ্বিতীয় ইনিংসে দুই উইকেট হারিয়ে ৩০৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করলে উইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৬২ রানের। তাড়ায় নেমে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানে বেশি করতে পারেনি রোস্টন চেজের দল।
এ নিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচটি টেস্ট সিরিজই জিতল কিউইরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দলটি সর্বশেষ হেরেছে ২০১২ সালে। টেস্টে রানের হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয় এটি। আগের রেকর্ড ২৪০, ২০১৭ সালে হ্যামিল্টনে।
পঞ্চম দিনের শুরুতেই ক্যারিবীয় ব্যাটারদের উপরে আঘাত হানেন ডাফি ও আজাজ। ব্র্যান্ডন কিংকে ৬৭ রানে ফেরান আজাজ। ১৬ রান করা জন ক্যাম্পাবলকে ফেরান ডাফি। তেভিন ইমলাচ করেন ১৫ এবং অ্যান্ডারসন ফিলিপের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। বাকিদের কেউই আর স্পর্শ করতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘর। শেষপর্যন্ত ৮০.৩ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানে থামে তারা।
কিউইদের হয়ে ডাফি একাই শিকার করেন ৫ উইকেট। আজাজ নেন ৩টি। একটি করে উইকেট নেন গ্লেন ফিলিপস ও রাচীন।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের রেকর্ড ও সেঞ্চুরিতে তিনশ করে ইনিংস ছাড়ে স্বাগতিক দল। ম্যাচে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রেকর্ড গড়েছেন দুই ওপেনার ল্যাথাম-কনওয়ে। টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার দুই ইনিংসে দুই ওপেনারের সেঞ্চুরি দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।
এছাড়া কিউইদের প্রথম কোন ক্রিকেটার হিসেবে কনওয়ে গড়েছেন আরও একটি রেকর্ড। একই টেস্টে একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরি করলেন। টেস্ট ইতিহাসে দশম ব্যাটার হিসেবে এমন কীর্তির মালিক হলেন কনওয়ে। এক টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরির তালিকায় কনওয়ের আগে নাম লিখিয়েছেন ব্রায়ান লারা, গ্রাহাম গুচ, কুমার সাঙ্গাকারা, মার্নাস লাবুশেন এবং শুভমন গিলের মতো ব্যাটাররা।









