সাংস্কৃতিক সংগঠন জলতরঙ্গ তার দায়িত্বপূর্ণ আয়োজন দিয়ে দশ বছর পূর্ণ করে এগারো বছরে পদার্পণ করল।
এ উপলক্ষ্যে সংগঠনটি গান আর কবিতার আসর করেছিল ছায়ানট মিলনায়তনে। গত ১৬ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় অনুষ্ঠান।
শুরুতেই বিশেষ অতিথি ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তার ২০ মিনিটের বক্তব্য হল ভর্তি দর্শক পিনপতন নীরবতায় শোনেন। তিনি বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষার চেয়েও বড়, সভ্যতার চেয়েও বড়; সংস্কৃতিই জাতির মেরুদণ্ড। পুঁজিবাদ কীভাবে মানুষকে পণ্যে পরিণত করে তিনি তা সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলেন। এরপরে মঞ্চে আসে বিশেষ অতিথি দুই শিশুশিল্পী, সারেঙ্গী বাদক ইউসুফ আহমেদ ও মাহিমা মেহজাবিন। এই দু’জন শিল্পী সারেঙ্গী বাদনে সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

এরপরে শুরু হয় ‘ভালো থেকো ফুল’ শীর্ষক মূল অনুষ্ঠান। সমবেত কন্ঠে দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার স্বপ্নঝরা আকূল করা জন্মভূমি’ দিয়ে আসর শুরু হয়। গ্যালারিতে তখন সবার চোখেমুখে মুগ্ধতার ছাপ। সবার মধ্যেই যেন গভীর দেশপ্রেম দোলা দিয়ে যাচ্ছিল। একে একে সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য, ও আমার বাংলা মা তোর, জন্ম আমার ধন্য হল, আবার আসিব ফিরে, একতারা লাগেনা আমার, আজকের শিশু, হায়রে আমার মন মাতানো দেশ, স্বাধীনতা এক গোলাপ ফোটানো দিনসহ ২০টি গান পরিবেশিত হয়, শ্রোতাদের মধ্যে এতটুকু অধৈর্যভাব বা বিরক্তি লক্ষ্য করা যায়নি। বরং সবাই গলা ছেড়ে গাইছিলেন প্রাণের গানগুলো।

সবশেষে পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত। যা শুরু হয় গগন হরকরার মূল গান আমি কোথায় পাব তারে দিয়ে। জাতীয় সংগীত গাইবার সময় জলতরঙ্গের দু’জন সদস্য একটি বড় জাতীয় পতাকা শিল্পীদের সামনে মেলে ধরে দাঁড়ান; যা উপস্থিত সবার মনে এক অসাধারণ অনুভুতির জন্ম দেয়।
পুরো অনুষ্ঠানের পাণ্ডুলিপি, গান/ কবিতা নির্বাচন, সময়ানুববর্তিতা, উপস্থাপনা, আমন্ত্রণ পত্র, স্মরণিকা ছিল প্রশংসনীয়। দর্শকরা বলছেন, এরকম আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন জাকির হোসেন তপন ও তানভীরা আশরাফ শ্যামা।









