ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা কিংবা উঁচু ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার খবর প্রায় নিয়মিতই ঘটছে। এমন ‘ঘটনারোধে’ নানারকম কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। স্প্রিং-লোডেড ফ্যান ব্যবহারের পর এবার ভবনের চারপাশে জাল ব্যবহার করছেন তারা। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আত্মহত্যা বিরোধী জাল।’
রোববার ২৭ আগস্ট ভারতীয় সংবাদ এনডিটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল এবং কলেজ হোস্টেলগুলোতে আত্মহত্যা বন্ধ করতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ছাত্রাবাসের মালিকরা বলেন, স্প্রিং-লোড ফ্যানের পর হোস্টেল কিংবা ছাত্রাবাসগুলোর বারান্দায় এবং শ্রেণী কক্ষগুলোর চারপাশে এবার ‘আত্মহত্যাবিরোধী জাল’ ব্যবহার করা হচ্ছে। যেকোন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সম্ভাব্য সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
মেয়েদের হোস্টেলসহ আট তলাজুড়ে ২০০ টিরও বেশি কক্ষ নিয়ে গঠিত বিশালাক্ষী রেসিডেন্সির মালিক বিনোদ গৌতম বলেন, উঁচু তলা থেকে লাফ দিলে শিক্ষার্থীদের আটকাতে আমরা সমস্ত লবি এবং বারান্দায় বিশাল জাল বসিয়েছি। এই জালগুলো ১৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন ধারণ করতে পারে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে আহত না হয় তাও নিশ্চিত করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ফ্যানের সাথে স্প্রিং এবং চারপাশের এই জালগেলো যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তার হোস্টেলে কোন আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি। তারপরও শিক্ষার্থীদের বাবা-মাকে চিন্তামুক্ত রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা । এই ধরনের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের বাবা-মার মনে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। কারণ তারা তাদের সন্তানদের থেকে অনেক দূরে থাকেন।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক হোস্টেল মালিক বলেন, সব লবি, জানালা ও বারান্দায় লোহার জাল বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, বেশিরভাগ ছাত্ররা ফ্যানের সাথে ঝুলে অথবা উঁচু তলা বা ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে । যেকোন বিপর্যয় এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসার সুনাম ধরে রাখতেও তারা এটা করছেন বলে জানান তিনি।







