ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের সরকারকে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে কালো তালিকায় যুক্ত করার সুপারিশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্বাধীন কমিশন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ভারতের পরিস্থিতি খারাপ হতে চলেছে বলে তারা টানা চতুর্থ বছরের মতো এ সুপারিশ করেছে।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) সোমবার প্রকাশিত তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতকে “বিশেষ উদ্বেগের দেশ” হিসাবে মনোনীত করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে আহ্বান জানিয়েছে।
ইউএসসিআইআরএফ ২০২০ সাল থেকে ভারতকে উদ্বেগের দেশ হিসেবে উল্লেখের জন্য বলে আসছে। এটি একটি সরকারের ধর্মীয় স্বাধীনতার পদ্ধতিগত, চলমান এবং গুরুতর লঙ্ঘনে অভিযুক্ত করে এবং মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার দিকে ঠেলে দেয়।
সংস্থাটি বলেছে, ভারত সরকার ২০২২ সালে জাতীয়, রাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় বৈষম্যমূলক নীতির প্রচার ও প্রয়োগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় ধর্মান্তরকরণ, আন্তঃবিশ্বাসের সম্পর্ক, হিজাব পরা এবং গোহত্যাকে লক্ষ্য করে আইন প্রণয়ন করে যা মুসলমান, খ্রিস্টান, শিখ, দলিত এবং আদিবাসীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ মুসলিম, প্রায় ২ শতাংশ খ্রিস্টান এবং ১ দশমিক ৭ শতাংশ শিখ। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু।
মার্কিন কমিশন আরও জোর দিয়ে বলে, মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বে ভারত সরকার সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরকে দমন করে চলেছে, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু।
মার্কিন কমিশন শুধুমাত্র সুপারিশ প্রস্তাব করে থাকে, কিন্তু তাদের কাছে নীতি নির্ধারণ করার কোন ক্ষমতা নেই। স্টেট ডিপার্টমেন্ট কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশা কম, কারণ ওয়াশিংটন এবং নিউ দিল্লির ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় তাদের সম্পর্ক জোরদার করা অব্যাহত রেখেছে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন পূর্ববর্তী বছরগুলোতে সুপারিশ করার পরও ভারতকে একটি ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসাবে তালিকাভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত অর্থনৈতিক বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির চারপাশে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ২০২২ সালে ভারতের বাণিজ্য ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার করেছ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জি২০ এবং জি৭ শীর্ষ সম্মেলন ও কোয়াড লিডারস সামিটসহ একাধিক অনুষ্ঠানে আলাপচারিতা করেছেন।
ভারত সরকার এখনও প্রতিবেদনে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। গত বছরের সুপারিশ অনুসরণ করে, নয়াদিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে অজ্ঞাত এবং পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
বাগচি সেই সময়ে একটি বিবৃতিতে বলেছিলেন, স্বাভাবিকভাবে বহুত্ববাদী সমাজ হিসাবে, ভারত ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারকে মূল্য দেয়।
সর্বশেষ ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল বলেছে, ইউএসসিআইআরএফ রিপোর্টে বছরের পর বছর ধরে যা বলে আসছে তা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে ভারতের সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে লঙ্ঘন করে চলেছে। বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের।
কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপারিশের কারণ
প্রতিবেদনে বাইডেন প্রশাসনকে আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, সিরিয়া এবং ভিয়েতনামকে কালো তালিকায় যুক্ত করার এবং মিয়ানমার, চীন, কিউবা, ইরিত্রিয়া, ইরান, নিকারাগুয়া, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, সৌদি আরব, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এর পুনর্বিন্যাস করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান দেশটি দখল করার পর কমিশন প্রথম আফগানিস্তানের জন্য সুপারিশ করেছিল। আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরে কমিশনের নজরদারি তালিকায় রয়েছে এবং সভার প্রথম দিকে তালেবান “বিশেষ উদ্বেগের দেশ” হিসেবে মনোনীত হয়েছিল।







