মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত বুধবার ৩ সেপ্টেম্বর এক রায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণাখাতে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার অনুদানে কাটছাট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যালিসন বুরোস এই রায়ে আইভি লিগভুক্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রায় দেন। আদালত বলেছে, হার্ভার্ডের প্রশাসনিক নীতি ও কাঠামো পরিবর্তনের জন্য হোয়াইট হাউসের চাপ প্রত্যাখ্যান করায় এ অনুদান কাটছাট ছিল অবৈধ প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।
এই রায় হার্ভার্ডের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন শুধু অনুদানই কাটেনি, বরং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর-ছাড় সুবিধা বাতিলের হুমকিও দিয়েছিল।
প্রশাসনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলাকালীন, গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রথমে স্থগিত করা হয়, যা পরে সম্পূর্ণ কেটে দেওয়া হয়। আদালতের এই রায় টিকে থাকলে, হার্ভার্ডের শত শত গবেষণা প্রকল্পে আবারও প্রাণ ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতের বাইরে, হার্ভার্ড ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে চলমান তদন্ত শেষ করে আবার ফেডারেল অর্থায়ন শুরু হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, হার্ভার্ডকে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে, যদিও এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। যদিও কলাম্বিয়া ও ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।
হার্ভার্ডের দায়ের করা মামলায় বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে ফেডারেল অ্যান্টিসেমিটিজম টাস্কফোর্সের একটি চিঠিতে প্রশাসনিক, শিক্ষাবিষয়ক ও ভর্তি নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের দাবি করা হয়। এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রশাসনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শিকার হয়।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার বলেন, আমরা অ্যান্টিসেমিটিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোনো সরকার নির্ধারণ করতে পারে না যে, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কী পড়াবে, কাকে ভর্তি বা নিয়োগ দেবে, এবং কোন বিষয়ে গবেষণা করবে।









