পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আবার তা স্থগিত করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। অভিযোগ রয়েছে, এই কমিটি নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে জেলা শাখা ছাত্রলীগ। এখন পদবঞ্চিতরা টাকা ফেরত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে।
সোমবার ১০ জুলাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কলাপাড়া উপজেলা শাখা, কলাপাড়া পৌর শাখা ও সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস কলেজ শাখার সদ্য ঘোষিত কমিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়া হয়।
এর আগে এদিন রাতে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তানভির হাসান আরিফ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হাসিবুল হাসানকে সভাপতি ও মো. তারিকুল ইসলাম বাবু তালুকদারকে সম্পাদক করে ছাত্রলীগ কলাপাড়া উপজেলা শাখা কমিটি, রাকিবুল হাসান রাব্বিকে সভাপতি ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সম্পাদক করে কলাপাড়া পৌর শাখা কমিটি এবং জসিম উদ্দীন জেতুকে সভাপতি ও মিজানুর রহমান মুসাকে সম্পাদক করে সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস কলেজ শাখা কমিটি ঘোষণা করে। এর পর রাতেই শহরে টাকা ফেরতের দাবি তুলে বিক্ষোভ মিছিল বের করে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েও কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির পদ পাননি বলে জানান ফয়জুল ইসলাম আশিক তালুকদার। এরপর টাকা ফেরত চান তিনি। পরে না পেয়ে ফেসবুকে একটি পোষ্ট দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জেলা ছাত্রলীগের।

সেখানে তিনি লিখেন, ‘টাকাগুলো যে নিছেন, দয়া করে ফেরত দেন। নাইলে গণভবনে যাবো, বাকি ডকুমেন্ট নিয়া।’ এছাড়া পদ প্রত্যাশী আশিকের সাথে জেলা সভাপতির টাকা সংগ্রহ করার নির্দেশনার অডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এভাবেই ধীরে ধীরে ফাঁস হতে থাকে উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের প্রায় কোটি টাকা বাণিজ্যের তথ্য।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ পৌর শহরে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় কমিটি ঘোষণার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে সদ্য ঘোষিত শাখাগুলোর কমিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়।
ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের প্রায় কোটি টাকার মিশন সফল করতে গত ২০ এপ্রিল স্থানীয় শেখ কামাল স্মৃতি কমপ্লেক্স অডিটরিয়ামে উপজেলা ছাত্রলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে পদ প্রত্যাশীদের জেলায় বায়োডাটা জমা দেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর শুরু হয় পদ প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাপ। জেলা ও কেন্দ্র ম্যানেজ করে উপজেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মাঠে নামে একাধিক বিএনপি পরিবারের সদস্য। যাদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যাদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক নেতা-কর্মী। তাদের সাথে চলে দর কষাকষি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সম্পাদক ও সভাপতির পদ বঞ্চিত ফয়জুল ইসলাম আশিক তালুকদার বলেন, ‘আমি আমার বাবার জমি বিক্রীর ১৫ লাখ টাকা দিয়েছি জেলা সভাপতি সাইফুল ভাইকে। ১৫ লাখ টাকা দিয়েও পদ না পাওয়ায় টাকা ফেরত চাওয়ায় তার সহযোগী সুজন ভাইকে দিয়ে আমাকে হুমকি দিয়েছেন। আমার চেয়ে দ্বিগুণ নিয়ে তারা কমিটি দিয়েছে। আমি আমার বাবার জমি বিক্রীর টাকা ফেরত না পেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাবো।’
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম টাকা লেন-দেনের অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। কেউ এরকম অভিযোগ দিলে তাকে প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ ছাড়া কোন কিছু বলা যুক্তিসঙ্গত হবে না।’
তবে কমিটি ঘোষণার পর পরই কেন্দ্র থেকে স্থগিত করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কী কারণে কেন্দ্র থেকে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে জানতে পারিনি। কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের অভিভাবক। তাদের সকল সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’








