গাজা উপত্যকায় অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে গৃহীত হয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে নরওয়ে ও এক ডজনের বেশি দেশের উত্থাপিত এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৩৯টি দেশ। বিপক্ষে ভোট পড়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসহ মাত্র ১২টি দেশের, আর ১৯টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
প্রস্তাবে ইসরায়েলকে দখলদার শক্তি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা না দেওয়া, জাতিসংঘের স্থাপনায় হামলা বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ভোট অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) অক্টোবর মাসে দেওয়া একটি পরামর্শমূলক মতামতের পর, যেখানে ইসরায়েলের আইনি দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
নরওয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি মেরেট ফেজেল্ড ব্র্যাটেস্টেড প্রস্তাব উপস্থাপনকালে বলেন, তিন দশকের মধ্যে ২০২৪ সাল ছিল সবচেয়ে সহিংস বছর এবং ২০২৫ সালও একই পথে এগোচ্ছে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি একটি বিশেষ ও জরুরি বিষয়।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকরাই সর্বোচ্চ মূল্য দিচ্ছে। মানবিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধা ক্ষয় হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো চরম চাপে রয়েছে।
ব্র্যাটেস্টেড উল্লেখ করেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের জন্য জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনি স্পষ্টতা চেয়েছিল, যা আইসিজের এই মতামতের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহে অবস্থিত ইউএনআরডব্লিউএ কম্পাউন্ডে ইসরায়েলের “অননুমোদিত প্রবেশ” জাতিসংঘ প্রাঙ্গণের অলঙ্ঘনীয়তার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভোটের আগে বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেফ বার্তোস প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এই প্রস্তাব প্রমাণ করে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৮০৩ পাস হওয়ার পরও সাধারণ পরিষদ ইসরায়েলকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করার পুরোনো ধারা বজায় রেখেছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজ্জারিনি ভোটের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই ভোট আইসিজের সেই সিদ্ধান্তের জোরালো সমর্থন দেয়, যেখানে ইউএনআরডব্লিউএ-তে হামাসের অনুপ্রবেশের অভিযোগ কিংবা সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
তিনি বলেন, এই ফলাফল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সিংহভাগের পক্ষ থেকে ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রতি দৃঢ় সমর্থনের স্পষ্ট বার্তা।
ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিষদের স্পিকার রুহি ফাত্তুহও প্রস্তাব গৃহীত হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই বিপুল ব্যবধান ইউএনআরডব্লিউএ-এর আইনি ম্যান্ডেট ও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সুরক্ষায় এর মূল ভূমিকার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
তিনি একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারি অপরাধ, জাতিগত নির্মূলের ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় বৃদ্ধি এবং ক্রমাবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।









