জাতিসংঘের এক তদন্তে প্রথমবার উঠে এসেছে, গাজায় ইসরায়েল সামরিক অভিযানের মাধ্যমে গণহত্যা চালাচ্ছে এবং এই অপরাধের জন্য ইসরায়েল রাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে তদন্ত কমিশন। প্রায় ২ বছর ধরে চলা যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘের এই মন্তব্যকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের চেয়ারপারসন নাভি পিল্লাই এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ইসহাক হারজগ, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াওয়াভ গালান্তকে এই গণহত্যার জন্য দায়ি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে তাদের প্রকাশ্য বিবৃতি এবং প্রদত্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে শনাক্ত করেছি।
তিনি আরও জানান, এই তিনজন ব্যক্তি যেহেতু রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, তাই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে রাষ্ট্রই দায়ী হয়। সেই কারণে আমরা বলেছি, গণহত্যা সংঘটন করেছে ইসরায়েল রাষ্ট্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি নেতাদের বিবৃতি এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে কমিশন সিদ্ধান্তে এসেছে যে, গাজাবাসীদের সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার ইচ্ছা ছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের।
কমিশনের মতে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার মধ্যে গণহত্যার উদ্দেশ্য বিদ্যমান।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই তদন্ত রিপোর্টকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে অভিহিত করেছে এবং অভিযোগ করেছে , এই প্রতিবেদন রচয়িতারা হামাসের হয়ে কাজ করছে। এই প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে হামাসের মিথ্যা তথ্য নির্ভর, যা অন্যরা ধুয়ে-মুছে উপস্থাপন করেছে।
তারা আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল এই বিকৃত ও মিথ্যাচারপূর্ণ প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে এবং অবিলম্বে এই কমিশন বিলুপ্ত করার দাবি জানাচ্ছে।
ইসরায়েলের জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ড্যানিয়েল মেরন এই প্রতিবেদনকে লজ্জাজনক, ভুয়া ও মানহানিকর অপপ্রচার বলেও মন্তব্য করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা গাজায় বৃহৎ পরিসরের বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহার করে বেসামরিক নাগরিকদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যা করেছে।
কমিশন মনে করে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করে ইসরায়েল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। যদিও গণহত্যার জন্য নিহতের সংখ্যা নির্ধারক নয়, তবে এ সংখ্যা গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণে সহায়ক হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়, যেখানে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে জিম্মি বানানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজায় অভিযান শুরু করে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৮৭১ জন নিহত এবং ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬১০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, জাতিসংঘের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দিনই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ বলেন, গাজা এখন আগুনে পুড়ছে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে গাজা জুড়ে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৪১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৭ জনই গাজা শহরের বাসিন্দা।









