যুক্তরাজ্যের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহাদুর্নীতির তদন্তে সহায়তা করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি দমন সমন্বয় কেন্দ্র (আইএসিসিসি) বাংলাদেশের সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তদন্তে সহায়তা করার জন্য সুযোগ খুঁজছে বলে জানা গেছে।
স্কাই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএসিসিসি যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) দ্বারা পরিচালিত এবং মূলত যুক্তরাজ্য সরকার দ্বারা অর্থায়ন করা হয়। এই সংস্থাটি বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকদের নিয়ে গঠিত, যারা মহাদুর্নীতির তদন্তে বিদেশি অংশীদারদের সাথে কাজ করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করার অংশ হিসেবে গত বছরের অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসে এনসিএ এর কর্মীরা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তবে, এই অনুসন্ধানী কাজের অর্থ এই নয় যে ব্রিটিশ সংস্থাগুলো সরাসরি লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তদন্তের সাথে জড়িত।
সূত্র জানিয়েছে, এনসিএ বা আইএসিসিসি কোনও নির্দিষ্ট তদন্তকে সমর্থন করছে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তবে এই উদ্যোগ বাংলাদেশ থেকে নেওয়া অর্থ যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তদন্তের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে।

বাংলাদেশে দুর্নীতির তদন্তে নাম আসার পর টিউলিপ সিদ্দিক দুর্নীতি দমন মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যদিও তিনি এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তার খালা শেখ হাসিনার সাথে সম্পর্কের কারণে করা হয়েছে।
টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের বেশ কয়েকটি সম্পত্তির মালিক ছিলেন যেগুলো তার খালা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্কিত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মানদণ্ড বিষয়ক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস জানান, তিনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অন্যায্যতার প্রমাণ শনাক্ত করতে পারেননি, তবে তিনি এটিকে “দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেছেন যে, সিদ্দিক তার খালার সাথে সম্পর্কের “সম্ভাব্য ঝুঁকি” সম্পর্কে ততটা সতর্ক ছিলেন না।
লেবার সূত্রগুলো জানিয়েছে, সিদ্দিকের কোনও বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, বিদেশে কোনও সম্পত্তির মালিক নন এবং যুক্তরাজ্য বা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ তার সাথে যোগাযোগ করেনি। তারা আরও পরামর্শ দিয়েছে যে, লেবার এমপির বিরুদ্ধে আরোপিত অনেক অভিযোগই মিথ্যা এবং তিনি বাংলাদেশি রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন।









