ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা বছরের অন্যতম শক্তিশালী টাইফুন কালমেগির তাণ্ডবে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে এ ঝড়ের নাম টিনো।
আজ (৫ নভেম্বর) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে মধ্য ফিলিপাইনের ঘনবসতিপূর্ণ সেবু দ্বীপে, যেখানে ৪৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও ২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
টাইফুনটি মঙ্গলবার ভোরে স্থলভাগে আঘাত হানার পর প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে সম্পূর্ণ শহর প্লাবিত হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ ছাদে আশ্রয় নিচ্ছে, আর স্রোতের তোড়ে গাড়ি ও কনটেইনার ভেসে যাচ্ছে রাস্তায়।
দুর্যোগে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একটি সামরিক হেলিকপ্টারের ছয়জন ক্রু সদস্য। যারা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিতে গিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত হন। ফিলিপাইন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ ডুবে যাওয়া। পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা কাদা ও পানির স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। শহর জুড়ে কাদা আর ধ্বংসাবশেষে ছেয়ে গেছে রাস্তাঘাট। উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ব্যবহার করে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন।
টাইফুন কালমেগি এখন ভিয়েতনামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে ইতিমধ্যেই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে কিছুটা দুর্বল হলেও এখনও ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাচ্ছে।









