ফিলিপাইনে ভয়াবহ টাইফুন কালমেগির আঘাতে অন্তত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ১২৭ জন। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে ফিলিপাইন পেরিয়ে ভিয়েতনামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আজ ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির ন্যাশনাল সিভিল ডিফেন্স অফিসের হিসাবে ১১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেবু প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের দেওয়া আরও ২৮ জনের মৃত্যুর তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সেবু প্রদেশ। সেখানে শহর ও গ্রামজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। প্রবল স্রোতে গাড়ি, নদীতীরের ঘরবাড়ি এমনকি বিশাল শিপিং কনটেইনারও ভেসে গেছে। সেবু শহরের উপকণ্ঠে লিলোয়ান এলাকায় বন্যায় এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে বহু ভবনের ছাদ উড়ে গেছে, আর স্থানীয়রা কাদা সরিয়ে ঘরবাড়ি পরিষ্কারের চেষ্টা করছেন।
পাশের নেগ্রোস দ্বীপে অন্তত ৩০ জন মারা গেছেন। টাইফুনের ভারী বৃষ্টিতে কানলাওন আগ্নেয়গিরি থেকে কাদা ধস নেমে ঘরবাড়ি চাপা পড়ে এসব প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ত্রাণ অভিযানে থাকা সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পড়ে ছয় ক্রু সদস্য মারা গেছেন। কালমেগি আঘাত হানার আগের ২৪ ঘণ্টায় সেবু অঞ্চলে ১৮ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়— যা মাসিক গড় ১৩ দশমিক ১ সেন্টিমিটারের চেয়ে অনেক বেশি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে টাইফুনগুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। উষ্ণ সমুদ্রের পানি ঝড়কে দ্রুত শক্তি জোগায়, আর উষ্ণ বায়ুতে বেশি আর্দ্রতা থাকায় বৃষ্টির পরিমাণও বেড়ে যায়। সরকারি হিসাবে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রায় ৮ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন ঠাঁই নিয়েছেন হাজারও বাস্তুচ্যুত মানুষ।









