ফলকে ভুল বানান রেখেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের আবাসিক হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চবি উপাচার্য কার্যালয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে হল দুটির আবাসন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার ও উপউপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে।
জানা যায়, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের উদ্বোধন ফলকে নামের বানানে ভুল থাকলেও সেই ফলকটি দিয়েই উদ্বোধন করা হয়েছে। ফলকটিতে লেখা হয় ‘অতীশ দীপঙ্কর শ্রীঞ্জান হলে ছাত্রদের আবাসনের শুভ উদ্বোধন।’ ‘শ্রীজ্ঞান’-এর জায়গায় লেখা হয়েছে ‘শ্রীঞ্জান।’
এ বিষয়ে চবির প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর ফজল জানান, এটি হলের চূড়ান্ত (পাথরের) ফলক নয়।
তিনি জানান, আগেরদিন বিকেল ৫টার দিকে নিশ্চিত করা হয় মন্ত্রী আজ হল দুটি উদ্বোধন করবেন। তাই অল্প সময়ে সাময়িক একটা ফলক তৈরি করা হয়েছে। এটা দেখতে পাথরের মতো মনে হলেও পাথরের না।
হল দুটির আবাসন কার্যক্রম উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. সজীব কুমার ঘোষ বলেন, উদ্বোধন ২৮ তারিখ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রী দিল্লি যাবেন বলে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়। উপাচার্যের অনুরোধে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রী মহোদয় আমাদের নিশ্চিত করেছেন অনলাইনেই তিনি দুটি হলের উদ্বোধন করবেন।
তিনি আরও বলেন, পাথরে খোদাই করে ফলক বানাতে অন্তত ২৪ ঘন্টা সময় লাগে। এত কম সময়ে পাথরে খোদাই করে ফলক তৈরি করা সম্ভব নয় বলে জানান প্রধান প্রকৌশলী। তাই প্রকৌশলীকে আমরা বলি, ফলক দুটির ডিজাইন প্রিন্ট করে প্রতীকী একটি ফলক তৈরি করতে। সময় কম থাকায় ভুল সংশোধন না করেই উদ্বোধন করতে হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভুল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে এ হলগুলো নির্মাণের বিষয়ে বলেছিলেন। দুটি হল আশা করি কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট লাঘব করবে। যারা এ হলগুলোতে থেকে লেখাপড়া করবেন, তারা নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে নিজের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করবেন।’
সভাপতির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, লোকবলের অভাবে গত চার বছরে হল দুটিতে ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থা করা যায়নি। ইউজিসি বলছে, খণ্ডকালীন কর্মচারীদের দিয়ে কাজ চালাতে। যাই হোক আমাদের প্রকৌশলীরা এক মাসের মধ্যেই দুটি হল আবাসনের উপযোগী করে তুলেছেন। আমরা চাইলেই পারি, কিন্তু আমরা অলস। তাই সবকিছুতে দেরি হয় আমাদের।’
তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করেছি দ্রুত হলগুলোর কার্যক্রম শুরু করতে। তারই অংশ হিসেবে শত ব্যস্ততার মধ্যেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী দিল্লি থেকেই হলগুলোর উদ্বোধন করেছেন।
এর আগে ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু হল উদ্বোধন করা হয়। অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি। দীর্ঘ নির্মাণকাজ শেষে আজ এই হলগুলোর উদ্বোধন করা হয়।









