শেরপুরে নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় পৃথক স্থানে দুই ব্যক্তি খুন হয়েছেন। পৃথক এ খুনের ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, নকলার গৌড়দ্বার ইউনিয়নের রুনীগাও মধ্যপাড়া গ্রামের দছির উদ্দিন মেম্বারের ছেলে দর্জি আইয়ুব আলী (৬৫) এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার কালিনগর গ্রামের মৃত মীর শেখের ছেলে মজিবর রহমান ওরফে ময়েজ উদ্দিন (৬৫)।
নিহত দুইজনের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেইসাথে পৃথক খুনের ঘটনায় আটককৃতরা হলেন, নকলার মুকুল মিয়া ও তার দুই ছেলে মহসিন হাসান এবং জিহান হাসান ও নালিতাবাড়ীর ইউনুছ আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নকলা উপজেলার গৌড়দ্বার ইউনিয়নের রুনীগাও মধ্যপাড়া গ্রামের দর্জি আইয়ুব আলীর (৬৫) মরদেহ বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) মধ্যরাতে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করেন স্বজনরা। প্রতিদিনের মতো তিনি নকলায় দর্জির কাজ করতে দোকানে যান। কিন্তু রাতে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা তাকে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে স্থানীয় একটি পুকুরে তার মরদেহ দেখতে পায়।
স্বজনদের অভিযোগ, জমি-জমা নিয়ে একইবাড়ির ভাতিজা মুকুল মিয়াদের সাথে আইয়ুব আলীর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিলো। তারাই আইয়ুব আলীকে খুন করেছে। স্বজনদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাতেই নিহতের ভাতিজা মুকুল মিয়া (৪৫) ও তার দুই ছেলে মহসিন হাসান (২৩) এবং জিহান হাসানকে (২০) আটক করে পুলিশ।
নকলা থানার ওসি হাবিবুর রহমান ঘটনার নিশ্চিত করে বলেন, নিহত আইয়ুব আলীর গলায়, বুকে ও চোখের উপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ধারালো ওইসব অস্ত্রের আঘাতেই তার মৃত্যু ঘটেছে। পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাতেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অপরদিকে নালিতাবাড়ী থানার ওসি মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, উপজেলার কালিনগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকা মজিবর রহমানকে ঝগড়ার একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার বিকালে তার শ্যালক ইউনুছ আলী লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।
এতে গুরুতর আহত হন মজিবর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নালিতাবাড়ী উপজেলা হাসপাতালে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে অভিযুক্ত ইউনুছ আলীকে শুক্রবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।









