অর্থ বা পুরস্কারের বিনিময়ে দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসের দুই সদস্য লর্ড রিচার্ড ডনাট এবং লর্ড ইভান্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার গোপন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাউজ অব লর্ডস স্ট্যান্ডার্ডস কর্তৃপক্ষ দুজন সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত শুরু করে। তদন্তে আচরণবিধি ভঙ্গের চারটি পৃথক ঘটনা শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লর্ড রিচার্ড ডনাট তিনটি কোম্পানির হয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন। মন্ত্রী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া ছাড়াও একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানির পক্ষে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি পাঠান। উল্লেখ্য, ওই কোম্পানিতে তিনি অর্থের বিনিময়ে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
এছাড়া গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, ছদ্মবেশে আসা ব্যবসায়ী পরিচয়ধারী সাংবাদিকদের তিনি জানান, চাইলে তাদের মন্ত্রীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী লর্ড ইভান্সও একটি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে নিজ অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া নিজের ছেলের মালিকানাধীন কোম্পানির জন্য পার্লামেন্টে একটি অনুষ্ঠান স্পনসর করা নিয়েও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ওই কোম্পানির এক-তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন ইভান্স।
লর্ড কন্ডাক্ট কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাস্তবে অর্থ লেনদেন বা তদবির না হলেও তাদের কথোপকথনে ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতা ব্যবহারের ইচ্ছা স্পষ্ট। যা জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং পার্লামেন্ট সদস্যদের মর্যাদাবান আচরণের নীতির লঙ্ঘন।
সাজা অনুযায়ী লর্ড ডনাটকে চার মাস এবং লর্ড ইভান্সকে পাঁচ মাসের জন্য বরখাস্ত করা হবে। তারা কেউই তদন্তের ফলাফল বা প্রস্তাবিত শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেননি। হাউজ অব লর্ডসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া মাত্রই এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।









