নরওয়েতে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি টিভি চ্যানেল চালু আছে। অনেক প্রতিবন্ধী সেখানে কাজ করেন, দেশব্যাপী এই চ্যানেল এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ ও তারকারা এই চ্যানেলের অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিয়ে থাকেন।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ডয়েচে ভেলে এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নরওয়ের এই জনপ্রিয় টিভির নাম ‘টিভি ব্র’, নরওয়েজিয়ান ভাষায় যার অর্থ ‘টিভি গুড’৷ প্রতিবন্ধীদের জন্য চালু এই টিভি প্রতিবন্ধীরাই পরিচালনা করছেন।
ভেগার্ড ল্যোলান্ড একজন সাংবাদিক হিসেবে টিভি ব্র-তে কাজ করেন। তিনি বলেন, আমি নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখি৷ হ্যাঁ, আমার ডাউন সিনড্রোম আছে৷ কিন্তু আমি এটাকে বড় করে দেখি না৷ আমি নিজেকে নিয়ে সৎ থাকি।
টিভির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক কামিলা কালহাইম তার কর্মীদের সততা ও খোলামনের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, এখানে অনেকে কাজ করেন, যাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। অনেকে ভালোমতো পড়তে-লিখতে পারেন না। তাদেরকে বার্তা গঠনে সহায়তা করতে হয়। এটা ছাড়া আমরা অন্য কোনো টিভি স্টেশনের মতোই পেশাদার৷ আর এখন আমাদের আরও গুরুত্ব সহকারে নেয়া হচ্ছে।
সমাজকল্যাণ কর্তৃপক্ষ ল্যোলান্ডকে তিন রুমের একটি অ্যাপার্টমেন্ট দিয়েছে। সেখানকার রান্নাঘরে আধুনিক চুলাও আছে। যদিও তিনি প্রধানত পিৎজা খেয়ে থাকেন।
লোল্যান্ড বলেন, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ আমার বয়স ৩৭৷ দীর্ঘদিন বাবার সঙ্গে ছিলাম৷ বলতে পারেন, তিনি আমাকে দেখে রেখেছিলেন।
কাজের যাওয়ার পথে ল্যোলান্ড নাচের কিছু মুদ্রা দেখান। তিনি বলেন, সাংবাদিক না হলে, নৃত্যশিল্পী হওয়ার ইচ্ছা ছিল।
সম্প্রতি স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী টিভি ব্র-তে যায়৷ শিক্ষকরা জানান, এই টিভির সাংবাদিকরা শিক্ষার্থীদের কাছে রোল মডেল৷ শিক্ষার্থীদের মোবাইলে টিভি ব্র এর অ্যাপ আছে।
শিক্ষিকা ট্রিন হালারাকার বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নরওয়েতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তখন অধিকাংশ শিক্ষার্থী এই টিভিকে অনুসরণ করবে।
তিনি বলেন, অন্য টিভিগুলোতে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যেটা খুব সমস্যার৷ আমরা টিভি ব্র এর উপর নির্ভর করি।
কালহাইম বলেন, নরওয়েতে আমরা দর্শকদের স্বীকৃতি পেতে সমর্থ হয়েছি৷ এখন অন্য দেশগুলোও আমাদের নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে৷ ফলে ভবিষ্যতে আমাদের প্রসার আরও বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে আমরা টিভি ব্র এর সাংবাদিক ল্যোলান্ড ও তার সহকর্মীদের কাছ থেকে আরও অনেক কিছু আশা করতে পারি।









