তুরস্কে ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের পর থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। গত বুধবার দুর্নীতির অভিযোগে ইমামোগলুকে আটক করা হলে তার সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসেন। সরকার পতনের দাবিতে মিছিল শুরু করে ইস্তাম্বুলের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় (২৬ মার্চ) বুধবার বিক্ষোভের অষ্টম দিনেও ইস্তাম্বুলসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করছেন। পুলিশের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে পড়েছেন বিক্ষোভকারীরা—প্রায় দেড় হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও আইনজীবীরা।
বিরোধী দল সিএইচপি ইতিমধ্যে বিক্ষোভ সংগঠিত করেছে এবং আগামী শনিবার আরও বড় মিছিলের পরিকল্পনা করেছে।ইমামোগলু তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত বলে দাবি করলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের জন্য কোনো স্থান নেই।
এদিকে, ইস্তাম্বুলের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকার পতনের দাবিতে মিছিল করেছেন, যেখানে পুলিশ কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বেশ কিছু সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশের হিংসাত্মক দমন ও গণগ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়ারলিকায়া বলেছেন, বেআইনি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় আটকের সংখ্যা বাড়ছে। এরদোয়ান দেশের নাজুক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু বিরোধীরা সরকারের পদক্ষেপকে অগণতান্ত্রিক বলে অভিযোগ করছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত, এবং বিক্ষোভ কতদূর গড়াবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।









