ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিধ্বস্ত হওয়ার পর, উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণে তুরস্কের কোনো কোম্পানি জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে এমন দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক।
এনডিটিভি জানিয়েছে, তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীনস্থ ‘সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিসইনফরমেশন’ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি তুর্কি টেকনিক দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল, এমন দাবি জনমতকে ভুল পথে পরিচালিত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আহমেদাবাদের ‘সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর উড়োজাহাজটি শহরের বিজে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল কমপ্লেক্সে বিধ্বস্ত হয়। লন্ডনগামী এই উড়োজাহাজটিতে থাকা ২৪১ জন যাত্রীর মধ্যে একজন অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান, তবে বাকিরা এবং ভবনে থাকা কয়েকজন নিহত হন বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি উঠেছিল যে, উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ করেছিল তুর্কি টেকনিক। তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া ও টার্কিশ টেকনিকের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় শুধুমাত্র ‘বি৭৭৭ ওয়াইড-বডি বিমান’ এর রক্ষণাবেক্ষণ সেবা অন্তর্ভুক্ত ছিল। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার এই চুক্তির আওতায় পড়ে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা জানি কারা এই উড়োজাহাজটির সর্বশেষ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল। তবে অহেতুক জল্পনা ছড়ানো রোধে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো থেকে আমরা বিরত থাকছি। তুরস্ক দাবি করেছে, কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এই দুর্ঘটনার সাথে তুর্কি প্রতিষ্ঠানের নাম জড়িয়ে তুরস্ক-ভারত সম্পর্কে ভুল বার্তা ছড়াতে চাইছে।
তুরস্কের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ডগুলোর সুনাম ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নজরদারি ও প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তুরস্কের জনগণ হিসেবে আমরা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ভারতীয়দের শোক ও দুঃখে পাশে আছি।









