মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও চীনসহ ৬০টি দেশের ওপর শুল্ক ঘোষণা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন এই শুল্ক বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাকি দেশগুলো ডব্লিউটিও-এর বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কিছু বিধান লঙ্ঘন করেছে এবং দেশগুলোর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কাছে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২ এপ্রিল ভারত ও চীনসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর ১০-৪৯ শতাংশ পর্যন্ত পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যা আগামী ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাস বলেন, এই শুল্কগুলো স্পষ্টতই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম লঙ্ঘন করে। মার্কিন এই শুল্ক বিশ্ব বাণিজ্যের বাধ্যবাধকতাকে লঙ্ঘন করে।
একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই শুল্কের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্বাহী আদেশে জানিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। তাই এখানে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা হস্তক্ষেপ কার্যকর নয়।
ইইউ প্রধান বলেছেন, ইউরোপ ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন – যেটি ২০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়েছে – পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি আপনি আমাদের একজনের বিরুদ্ধে যান, তাহলে পুরো ইউরোপের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য কাজ করবেন যাতে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ এড়ানো যায়।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, তার দেশ ‘একটি উন্মুক্ত বিশ্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ থাকবে। এদিকে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে অনুশোচনীয়’ এবং ‘কাউকে উপকৃত করবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার এলিসি প্রাসাদে শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন উল্লেখ করে ফরাসি সরকারের মুখপাত্র সোফি প্রিমাস বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, ফ্রান্স ‘এই বাণিজ্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’।
ইইউ-এর বাইরে, চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা পূর্বের ২০ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট ৫৪ শতাংশ হয়েছে। তাইওয়ান ৩২ শতাংশশুল্কের শিকার হয়েছে। দেশটি এই পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু বলেছেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ বাস্তবে পরিণত হয়েছে’ এবং তার সরকার ‘বাণিজ্য সংকট কাটিয়ে ওঠার উপায় খুঁজছে’, কারণ দেশটি ২৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়েছে।
জাপান বলেছে, ২৪ শতাংশ শুল্ক ‘চরম অনুশোচনীয়’ এবং এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র-জাপান চুক্তির লঙ্ঘন হতে পারে। থাইল্যান্ড জানিয়েছে, তারা তাদের ৩৬ শতাংশ শুল্ক নিয়ে আলোচনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা সব পণ্যের শুল্ক তুলে দিয়েছিল ইসরায়েল। কিন্তু এখন ১৭ শতাংশ নতুন শুল্কের ঘোষণায় ‘সম্পূর্ণ হতবাক’ হয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। ১০ শতাংশ মূল হারযুক্ত দেশগুলোর নেতারাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, আমেরিকান জনগণই এই ‘অযৌক্তিক শুল্কের’ সবচেয়ে বড় মূল্য দেবে।
বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টার্মার বলেছেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে শুল্কের প্রভাব হ্রাস করতে ‘সংগ্রাম’ চালাবে।
ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ব্রাজিল, বুধবার কংগ্রেসে একটি আইন পাশ করেছে যা ট্রাম্পের ১০ শতাংশ শুল্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কানাডা ও মেক্সিকো এই তালিকায় না থাকলেও, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, নতুন শুল্ক তাদের ‘প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে’।









