বিশ্বের শেয়ারবাজারগুলোতে হঠাৎ স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার পর। চীন বাদে বাকি সব দেশের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপে ৯০ দিনের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার এই ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ কমাতে সাহায্য করে, যার প্রতিফলন দেখা যায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতিতে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিটে বুধবার এক নজিরবিহীন লেনদেনের দিন কাটে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল সূচক প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করে, আর প্রযুক্তিভিত্তিক ন্যাসডাক সূচক ১২.২ শতাংশ লাফিয়ে উঠে ২৪ বছরের মধ্যে সেরা দিনের রেকর্ড গড়ে। স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস সূচকও ৯.৫ শতাংশ বেড়ে ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ একদিনের প্রবৃদ্ধি দেখায়।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে প্রধান মার্কিন সূচকগুলোর মধ্যে এটি ছিল একদিনে তৃতীয় বৃহত্তম উত্থান।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বাজার চাঙ্গা হয়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৮.৩ শতাংশ বেড়ে যায়, সাউথ কোরিয়ার কোসপি সূচকও ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ৬ শতাংশের বেশি লাফ দেয়। তাইওয়ানে প্রথম লেনদেনেই সূচক ৯.২ শতাংশ বেড়ে যায়, যেখানে টেক জায়ান্ট টিএসএমসি এবং ফক্সকন যথাক্রমে ১০ ও ৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। হংকংয়ে হ্যাং সেং সূচক ২.৬৯ শতাংশ এবং সাংহাই কম্পোজিট সূচক ১.২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
এদিকে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ভিয়েতনামে সূচক ৬.৬২ শতাংশ বেড়ে ১,১৬৬.৭১ পয়েন্টে পৌঁছায়, আর জাকার্তায় সূচক ৪.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬,২৫৭.১৮ পয়েন্টে।
বাজারে এই পরিবর্তন শুধু শেয়ারবাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত জাপানি ইয়েন ডলারের বিপরীতে ০.৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৩,০৯৭ ডলারে।
ট্রাম্পের ঘোষণাকে “একটি বড় চমক” হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাপানের রাকুটেন সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মাসায়ুকি কুবোটা বলেন, এটি বাজারে আস্থার বড় পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছে। একইসঙ্গে, বোস্টনের বলভিন ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জিনা বলভিন একে “একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে অনেক বিশ্লেষকই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে ৯০ দিনের সময়সীমা শেষে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীদের সামনে সেই অনিশ্চয়তা সামাল দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।









