মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সময় আইন ভঙ্গ করেছেন বলে রায় দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। বিচারক বলেছেন, ট্রাম্প অবৈধভাবে সামরিক বাহিনীকে পুলিশি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা মার্কিন শহরগুলোতে সেনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর বড় আইনি বাধা সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার মার্কিন জেলা বিচারক কারিন ইমারগুট এই ঐতিহাসিক রায় দেন। এটি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন অভিযানে ট্রাম্পের সামরিক বাহিনী ব্যবহারের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রথম রায়।
একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বিক্ষোভকারীরা বিদ্রোহ চালাচ্ছিল, যা আইনগতভাবে সেনা মোতায়েনের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে বলে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়েই নিয়োগ পাওয়া বিচারক ইমারগুট এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ডেমোক্র্যাটরা এই পদক্ষেপকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প আক্রমণ বা সশস্ত্র বিদ্রোহের মতো প্রকৃত জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রদত্ত সামরিক ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।
ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড রায়টিকে একটি বিশাল বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে যেকোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ওরেগনে গার্ড পাঠাতে পারবেন না। আদালত প্রশাসনকে সত্য ও আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধ করেছে।
পোর্টল্যান্ডের মেয়র কিথ উইলসনও আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই রায় আমাদের শহরের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে। আমি শুরু থেকেই বলেছি, পোর্টল্যান্ডে ফেডারেল সৈন্যের প্রয়োজন নেই।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওরেগন অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এবং পোর্টল্যান্ড সিটি কর্তৃপক্ষ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প প্রশাসন শহরে মাঝে মাঝে সংঘটিত সহিংসতাকে অতিরঞ্জিত করে সেনা মোতায়েনের ন্যায্যতা দেখানোর চেষ্টা করেছে।

বিচার বিভাগের আইনজীবীরা ট্রাম্পের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে পোর্টল্যান্ডকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা হিসেবে বর্ণনা করেন কিন্তু ওরেগন সরকারের আইনজীবীরা জানান, সহিংসতা ছিল বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রিত, যা স্থানীয় পুলিশ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল।
পোর্টল্যান্ডের পক্ষে আইনজীবী ক্যারোলিন টার্কো বলেন, এই মামলার আসল প্রশ্ন হলো- আমরা কি সাংবিধানিক আইনের জাতি, নাকি সামরিক আইনের জাতি?
ট্রাম্প প্রশাসন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মামলাটি শেষ পর্যন্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পোর্টল্যান্ডের সেই বিক্ষোভ থেকে ফেডারেল অপরাধের অভিযোগে ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১ জন দোষ স্বীকার করেছেন এবং বেশিরভাগকেই প্রবেশনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বিচারক ইমারগুটসহ মোট তিনজন ফেডারেল বিচারক ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্ধৃত জরুরি ক্ষমতার আওতায় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের কোনো বৈধতা ছিল না।









