চীনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি এগিয়ে নিলে কানাডার পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যদি মনে করেন, কানাডা চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য একটি ড্রপ-অফ পোর্ট হয়ে উঠতে পারে, তবে তিনি গুরুতর ভুল করছেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে কোনো চুক্তি করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব কানাডীয় পণ্য ও পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ওই পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রী না বলে কার্নিকে গভর্নর বলে উল্লেখ করেন।
শনিবার কানাডা–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক লেব্লাঁ সামাজিক মাধ্যম এক্সে বলেন, চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি জানান, গত সপ্তাহে অটোয়া ও বেইজিংয়ের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্কসংক্রান্ত ইস্যুর সমাধান।
লেব্লাঁ বলেন, কানাডার নতুন সরকার একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে দেশের ভেতরে সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার করাই এর লক্ষ্য।
এর আগে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া এক বক্তব্যে কার্নি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করলে চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
ওই বক্তব্যে কার্নি বলেন, আমরা এখন একটি ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, এটি কোনো রূপান্তর নয়, এবং চাপ ও হুমকির মুখে বিশ্বের মধ্যম শক্তিগুলোকে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
কার্নির বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প দাভোস থেকেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে। পরেরবার বক্তব্য দেওয়ার সময় এটা মনে রাখবেন, মার্ক। একই সঙ্গে ট্রাম্প তার তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ কার্নিকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তও বাতিল করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগ থেকেই কানাডার পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। একাধিকবার তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথাও বলেছেন।
এই অবস্থায় উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কাতারসহ নতুন অর্থনৈতিক অংশীদার খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছেন।
নোভা স্কোশিয়ার সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কানাডা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ আসা ম্যাককারচার আল জাজিরাকে বলেন, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার নির্ভরতা কমানোর কার্নির কৌশলের অংশ। একজন ব্যাংকার হিসেবে তিনি ঝুঁকি কমাতে ‘বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও’র কথাই ভাবছেন।
তিনি আরও বলেন, কার্নি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এখন বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অংশীদার ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিরুদ্ধেও বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছেন, তখন এই মূল্যায়ন অযৌক্তিক নয়।
গত সপ্তাহে চীনা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য কার্নি বেইজিং সফর করার পর কানাডা সরকার চীনের সঙ্গে একটি ‘নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব’ ঘোষণা করে। ওই চুক্তির আওতায় চীন কানাডা থেকে ক্যানোলা ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। বিনিময়ে কানাডার বাজারে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক যান প্রবেশের অনুমতি দেবে অটোয়া।
চুক্তি ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, কানাডা–চীন সম্পর্কের সেরা সময়ে আমাদের দুই দেশের জনগণের জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।









