গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে অবস্থান না নিলে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক স্বাস্থ্য বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।
ট্রাম্প বলেন, যদি দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে না যায়, তাহলে আমি তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি, কারণ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদেনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প আবারও আধা-স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডের ওপর দাবি জোরালো করেছেন। রিপাবলিকান এই নেতা দাবি করেন, আর্কটিক অঞ্চল ও এর খনিজ সম্পদের প্রতি রাশিয়া ও চীনের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় গ্রিনল্যান্ড এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যদিও রাশিয়া এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেনি। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট এক বিবৃতিতে বলেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার এবং আর্কটিকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারেই রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফ্রান্স ও জার্মানির সামরিক উপস্থিতি দ্বীপটিতে আরও দৃশ্যমান হয়েছে। তবে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ইউরোপীয় সেনা উপস্থিতি ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বা গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের লক্ষ্যকে প্রভাবিত করবে না।
অন্যদিকে ডেনমার্ক স্পষ্টভাবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, এটি প্রশ্নাতীত। আমরা ডেনমার্কে বা গ্রিনল্যান্ডে এটি চাই না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করে বলেন, যদি আমাদের এখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়, তাহলে আমরা ডেনমার্ককেই বেছে নেব। আমরা ন্যাটো, ডেনমার্কের রাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষেই থাকব।









