ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের তৎপরতা আরও জোরদার করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন বলে দাবি করে আসছেন তিনি।
বুধবার ১৪ জানুয়ারি, ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে ব্যর্থ হন। বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য নিরসন না হওয়ায় উভয় পক্ষ একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের সীমারেখা সম্মানের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
গ্রিনল্যান্ড সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে আগ্রহী, কিন্তু কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যেতে চায় না। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয়ই বলছে, নিজেদের সার্বভৌমত্বের সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নেবে, যুক্তরাষ্ট্র নয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিকভাবে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তাহলে ন্যাটোর অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় কমিশনার আন্দ্রিউস কুবিলিউস। এমন প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ককে সমর্থন জানিয়ে গ্রিনল্যান্ডে জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে ও সুইডেন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা দাবি করে ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো বিদেশি আগ্রাসনের ক্ষেত্রে ডেনমার্ক আদৌ গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে পারবে কি না। তাঁর মতে, তাই গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকা জরুরি।
এ বিষয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোর ভাষায় বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের ব্ল্যাকমেইল অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে চলমান এই টানাপোড়েনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।









