বন্ধকী সম্পত্তির চুক্তি জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিগগিরই তাকে অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
কুক ফেডারেল রিজার্ভের ‘বোর্ড অব গভর্নরসে’র সাত সদস্যের একজন। ব্যাংকটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম আফ্রিকান বংশাদ্ভূত নারী, যিনি গুরুত্বপূর্ণ এমন পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
২০২২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন তাকে পদটিদে নিয়োগ দিয়েছিল, কিন্তু চলতি বছর ট্রাম্প দেশটির ক্ষমতায় বসার পর থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিলো যে, লিসা কুককে বরখাস্ত করা হতে পারে।
এর মধ্যেই সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি পোস্টে ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর কুককে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি প্রকাশ করেছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
চিঠিতে কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী চুক্তিতে জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। চুক্তিতে তিনি যে ‘মিথ্যা বিবৃতি’ দিয়েছেন, সেটা বিশ্বাস করার ‘যথেষ্ট কারণ’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এরপর সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে কুককে অপসারণের অনুমতি দিয়েছেন তিনি।
ফেডারেল রিজার্ভের ১১১ বছরের ইতিহাসে একজন গভর্নরকে এভাবে বরখাস্ত করার ঘটনা আগে কখনোই ঘটেনি বলে জানা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কুক কিংবা ফেডারেল রিজার্ভ, কেউই কোন মন্তব্য করেনি।
তবে কুককে যেভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, সেটির বৈধতা নিয়ে আগামীতে আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আদালত পর্যন্ত গড়ালে ট্রাম্প প্রশাসনকে কুকের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ প্রমাণ করতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
ট্রাম্পের চিঠি অনুসারে, কুক এমন একটি নথিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে মিশিগানের একটি বাড়ি আগামী বছরের জন্য তার বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এ ঘটনার দুই সপ্তাহ পরে আপনি (কুক) জর্জিয়ার আরেকটি সম্পত্তির নথিতে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে সেটি আগামী বছরের জন্য আপনার প্রাথমিক বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন যে, দ্বিতীয় সম্পত্তির নথিতে স্বাক্ষর করার সময় আপনি প্রথমটির বিষয়ে অবগত ছিলেন না।’
গত সপ্তাহে বিবৃতিতে কুক জানিয়েছিলেন যে, তিনি গণমাধ্যমের খবর থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে পেরেছেন।
যে বন্ধকী ঋণের আবেদনের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদানের চার বছর আগে করেছিলেন বলেও জানান কুক।
বিবৃতিতে লিসা কুক বলেছিলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে তোলা কিছু প্রশ্নের কারণে আমার পদত্যাগ করার কোনো ইচ্ছা এখন পর্যন্ত আমার নেই।’
লিসা কুক জানান, ‘ফেডারেল রিজার্ভের সদস্য হিসেবে আমার আর্থিক ইতিহাস সম্পর্কে ওঠা যেকোনো প্রশ্নকে আমি গুরুত্ব সহকারে নিতে চাই। সেজন্য অভিযোগের জবাব দিতে আমি তথ্য সংগ্রহ করছি।’







![{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}](https://www.channelionline.com/wp-content/uploads/2026/01/Picsart_26-01-20_12-20-02-008-120x86.jpg)

