যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক চার্লি কার্ককে (৩১) বুধবার ১০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুরে উটাহর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় গুলি করে হত্যা করে হয়েছে। উটাহর গভর্নর স্পেন্সার কক্স ঘটনাটিকে সরাসরি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে উটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির একটি উন্মুক্ত জনসভায় বক্তৃতা করছিলেন কার্ক। সেই সময় দূর থেকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং মঞ্চ থেকে পড়ে যান। ঘটনার পর মুহূর্তেই উপস্থিত মানুষজন আতঙ্কে ছুটে পালানো শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার গলা থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বন্দুকধারী ব্যক্তি দূরবর্তী একটি ভবনের ছাদ থেকে গুলি করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার সময় সেখানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার ৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, একজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এখনও পলাতক তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই অনুষ্ঠানে কার্কের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের ছয়জন সদস্য দায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিস থেকে একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, আমার প্রশাসন এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে খুঁজে বের করবে। সেটি কোনো ব্যক্তি হোক কিংবা প্রতিষ্ঠান।
তিনি আরও বলেন, র্যাডিক্যাল বামপন্থীরা চার্লির মতো চমৎকার মানুষদের নাৎসি এবং খুনি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই ধরনের রাজনৈতিক বিদ্বেষই আজকের সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী।
ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সব সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে আগামী রোববার পর্যন্ত।
হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে চার্লি কার্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের চেষ্টা করা হলেও তা রাজনৈতিক উত্তেজনায় বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।









