নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ টেলিভিশন বিতর্কে নির্বাচনের দুই প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস দু’জনেই একে অপরকে মিথ্যেবাদী ও দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টায় এবং বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ-এর আয়োজনে শুরু হাওয়া বিতর্কে একে অপরকে দোষারোপ করেন তারা।
গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধ
গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন বিশ্বে কোন যুদ্ধ হয়নি। কমলা হ্যারিস ইসরায়েল এবং আরবদের ঘৃণা করেন।
এদিকে কমলা বলেছেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং যুদ্ধের অবসান চান তিনি। আফগানিস্তান প্রসঙ্গে কমলা বলেছেন, ট্রাম্প তালেবানের সাথে বৈঠক করেছেন।
আর ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, তিনি যে চুক্তি করেছেন তা ভণ্ডুল করে দিয়েছেন বাইডেন।

গর্ভপাত বিতর্ক
হ্যারিস অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নির্বাচিত হলে তিনি জাতীয় পর্যায়ে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করবেন।
ট্রাম্প সেই অভিযোগকে “মিথ্যা” বলে অভিহিত করে বলেন, আমি কোন নিষেধাজ্ঞায় সই করবো না, এবং নিষেধাজ্ঞায় সই করার কোন কারণ নাই। গর্ভপাতের বিষয় প্রতিটি রাজ্যের হাতে রেখে দেওয়া উচিত।
হ্যারিস মধ্যবিত্তর জন্য আয়কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে গর্ভপাতের অধিকার ফিরিয়ে আনবেন, যেটা সুপ্রিম কোর্ট ২ বছর আগে বাতিল করেছিল।
অভিবাসী বহিষ্কার
ট্রাম্প যখন প্রমাণ না দেখিয়ে দাবি করেন অভিবাসীরা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিনদের চাকরি দখল করছে। অভিবাসীরা ওহাইও রাজ্যে বিড়াল এবং কুকুর খেয়েছে। তখন হ্যারিস উত্তর দেন, উগ্রতা কাকে বলে!
রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প পুনরায় লক্ষ লক্ষ অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করার অঙ্গীকার করেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, হ্যারিসের নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলায় পরিণত করবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি দ্রুত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন, এমনকি ইউক্রেন রণাঙ্গনে জয়লাভ না করা সত্ত্বেও। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধে ইউক্রেনের জয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কি না, এই প্রশ্ন ট্রাম্প বার বার এড়িয়ে যান।
হ্যারিস বলেন, এই কারণেই ন্যাটো জোটে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ট্রাম্প ক্ষমতায় না থাকায় স্বস্তিতে আছে। বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সাহায্য করার জন্য শত শত কোটি ডলার পাঠিয়েছে।
এছাড়াও ট্রাম্প ২০২১ সালে হোয়াইট হাউস ছেড়ে দেওয়ার পর দেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে হ্যারিস তার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ দেশের অর্থনীতি বিধ্বস্ত করেছিল।
হ্যারিস দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা করেন, বিশেষ করে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার জন্য।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ-এর আয়োজনে ৯০ মিনিটের এ বিতর্কে মূল্যস্ফীতি, অভিবাসী ও গর্ভপাতসহ নানা বিষয় উঠে আসে।









