ক্রাইস্টচার্চে ত্রিদেশীয় টি-টুয়েন্টি সিরিজের সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামবে বাংলাদেশ।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকালে শুরু হওয়া ম্যাচে টসে জিতে আগে ফিল্ডিং বেছে নেন টাইগারদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ভ্রমণ ক্লান্তির কারণে আজ খেলছেন না নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
আগে ব্যাট করা পাকিস্তান ৫ উইকেটে করেছে ১৬৭ রান। ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫০ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
প্রথম ওভারে বল হাতে নেয়া পেসার তাসকিন আহমেদ এক রানের বেশি খরচ করেননি। দ্বিতীয় ওভারে নির্বিষ বোলিং করা মোস্তাফিজুর রহমান দেন ১০ রান। হাসান মাহমুদের করা তৃতীয় ওভার থেকেও ১০ রান আসে।
চতুর্থ ওভারে নাসুম আহমেদকে বোলিং আক্রমণে আনেন সোহান। এই ওভারের দ্বিতীয় বলে ডাউন দ্য উইকেটে মিড অফের উপর দিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম ছক্কাটি মারেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।
একই ওভারের পঞ্চম বলে একেবারে সহজ রান আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান। পাকিস্তানি অধিনায়ক বাবর আজম মিডউইকেটে বল ঠেলে দেয়া মাত্র রানের জন্য ছুটেন রিজওয়ান। রান নেয়া সম্ভব নয় বুঝে তাকে ফিরিয়ে দেন বাবর। কিন্তু বল ধরার সময় হাস্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন সাব্বির রহমান। ১০ রানে থাকা রিজওয়ানের পা ফসকে পড়ে গেলেও কোনোমতে ক্রিজের দাগের ভেতর পৌঁছাতে পারেন। তিনি। তখন পাকিস্তানের দলীয় রান ছিল ২৭।
পাওয়ার প্লেতে উইকেট আদায়ে ব্যর্থ হন বাংলাদেশি বোলাররা। ৬ ওভারে পাকিস্তান তুলে নেয় ৪৩ রান। ওপেনিং জুটিতে ৫২ রান যোগ করেন বাবর-রিজওয়ান।
মেহেদী হাসান মিরাজ অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন। ২৫ বলে ৪টি চারে ২২ রান করা বাবর সুইপ করতে গেলে বল তার ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ উঠে যায়। ফিল্ডার মোস্তাফিজ বল তালুবন্দি করেন।
এরপর আবারো রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। মিরাজের করা বল মিডঅফে ঠেকে দিয়েই রানের জন্য ছুটেন শান মাসুদ। লিটন দাস বল হাতেই নিতে পারেননি। ১২ রানে আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান মাসুদ।
১৩তম ওভারে বিদায় নেন মাসুদ। ২২ বলে ৪টি চার ও এক ছক্কায় ৩১ রান করে তিনি নাসুমের বলে লং অনে শট করতে যান। শর্ট থার্ডম্যানে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ক্যাচ নেন হাসান।
৬ রান করা হায়দার আলীকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। পুল শটে হায়দার বল সীমানা ছাড়া করতে পারেননি, ইয়াসির আলী রাব্বি ধরেন ক্যাচ।
নাসুমের করা প্রথম বলে এক রান নিয়ে নিজের ফিফটি পূরণ করেন রিজওয়ান। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে সবশেষ আট ইনিংসের ভেতর ছয়টিতেই তিনি ফিফটির দেখা পেলেন।
৮ বলে ২ চারে ১৩ রান করা ইফতিখার আহমেদ পুল করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে হাসানের বলে আফিফ হোসেনের ক্যাচে পরিণত হন।
তাসকিনের করা ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেম আসিফ আলী। মোহাম্মাদ নাওয়াজ ৫ বলে এক ছক্কায় ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
শেষের দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলের রান দ্রুত বাড়াতে থাকেন রিজওয়ান। তার ব্যাটিংয়ের বদৌলতে শেষ ৪ ওভারে পাকিস্তান স্কোরবোর্ডে ৫১ রান তুলে ফেলে।
৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট পান তাসকিন। নাসুম ২২ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। মিরাজ ১২ রান দিয়ে এক উইকেট পেলেও কেন তাকে দিয়ে দুই ওভারের বেশি করানো হয়নি, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। এক উইকেট পেলেও খরুচে হাসান মাহমুদ দেন ৪২ রান। ধারহীন মোস্তাফিজ বিলিয়ে দেন ৪৮ রান, পাননি একটিও উইকেট।







