উন্নত কর্ম পরিবেশ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে জার্মানিজুড়ে ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন কর্মীরা। এঘটনায় দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো যাত্রী।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রায় এক লাখ পরিবহন শ্রমিকের প্রতিনিধিত্বকারী ভার্দি জানায়, কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত দাবিতে পৌর ও রাজ্য নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পরই এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের দাবি—উন্নত কর্মপরিবেশ এবং কর্ম ঘণ্টা কমানোসহ বেতনভুক্ত ছুটির সংখ্যা বাড়ানো। তবে বাজেট সংকটের কারণে এসব দাবি মানতে অনীহা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই ধর্মঘট জার্মানির ১৬টি ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে একটি বাদে প্রায় ১৫০টি পৌর পরিবহন সংস্থাকে প্রভাবিত করেছে। বার্লিন, হামবুর্গ ও ব্রেমেনসহ বড় শহরগুলোতে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা গেছে।
ভার্দির প্রধান আলোচক সেরাত ক্যানিউর্ট আরবিবি রেডিওকে বলেন, এটি স্থানীয় পরিবহন খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় সমন্বিত শিল্প আন্দোলনগুলোর একটি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধর্মঘটের পর গণপরিবহন অপারেটররা আবার আলোচনার টেবিলে ফিরবে।
স্টুটগার্ট, কার্লসরুহে ও ফ্রেইবার্গে পুরো দিনের জন্য পরিবহনসেবা বন্ধ থাকবে বলে ইউনিয়ন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এদিকে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প পরিবহনের সন্ধানে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে ডয়চে বাহন জানিয়েছে, ভার্দির আওতাভুক্ত না হওয়ায় বার্লিন, হামবুর্গ, মিউনিখ ও স্টুটগার্টে এস-বাহন নগর রেল পরিবহন সেবা এবং দূরপাল্লার ট্রেন সোমবার স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তা সমিতির মধ্যে আলোচনা ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভার্দির অভিযোগ, পৌরসভাগুলো সুবিধা কমিয়ে কর্ম ঘণ্টা দীর্ঘ করার চেষ্টা করছে। বার্লিনে ইউনিয়ন নেতারা জানান, অপারেটররা অসুস্থতা ভাতা ও নমনীয় কর্মঘণ্টা বাতিল করে শ্রমিকদের নিজেদের উন্নতির খরচ নিজেরাই বহনের প্রস্তাব দিচ্ছেন।
পরবর্তী দফা আলোচনা আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইউনিয়ন নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর শিল্প আন্দোলনের পথে যেতে পারেন তারা।









