ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির মুখে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে কমলাপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকটি ট্রেন ছাড়া সবগুলো ট্রেনই শিডিউল অনুযায়ী ছেড়েছে।
স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, মঙ্গলবার শুধু রংপুর এক্সপ্রেস, নীল সাগর এক্সপ্রেস, ধুমকেতু এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস দেরিতে ছেড়েছে। ট্রেন বিলম্বে আসায় ছাড়তে দেরি হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছাড়ার সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে এই বিপর্যয় আর থাকবে না।
মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল ওই পারে একটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটেছে। সে কারণে ট্রেন আসতে দেরি হয়েছে। এখান থেকে ছাড়তেও দেরি হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন সকালের ট্রেন বিকেলে, বিকেলের ট্রেন রাত ১২টায় বা পরের দিন এসেছে। এখন সে অবস্থা নেই। আমরা চাই মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে। সবাই আনন্দ করার জন্যই বাড়ি যাচ্ছে, এতে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে।’
ঈদযাত্রার প্রথম দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেল কর্মজীবী মানুষের অনেকেই পরিবারকে আগেভাগেই বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এ সময় বাড়ি যেতে দেখা যায়।
চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসে বাড়ি যাচ্ছেন শ্যামলী বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদে একটু দ্রুতই বাড়ি যাচ্ছি। কোনো জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়নি।’
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেল রানা একতা এক্সপ্রেসে ঈশ্বরদী যাবেন। তিনি বলেন, ‘আমার ট্রেন সকাল ১০টায়। কিন্তু একটু আর্লি স্টেশনে চলে এলাম। বাড়ি যাব তাই খুশি লাগছে।’
ঈদযাত্রার প্রথম দিন মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় কমলাপুর থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছাড়ে দেড় ঘণ্টা পর, সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। ট্রেনটি কমলাপুর আসে সকাল ৬টা ২০ মিনিটে।
এক কিংবা দেড় ঘণ্টা দেরিকে শিডিউল বিপর্যয় বলতে নারাজ কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা না ঘটলে বা দুর্ঘটনা না হলে আমরা ঈদযাত্রার বাকি দিনগুলোতে ঠিক সময়েই ট্রেন ছাড়তে পারব।







