ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ‘অসম চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। গত ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবাদলের পর প্রথবারের মতো অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের দিক থেকে ‘টোন’ আগের চেয়ে আলাদা হবে বলে ইঙ্গিত দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে বিজিবির ডিজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি।
বিগত সময়ের চেয়ে এবারের বৈঠকে কী পার্থক্য থাকছে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের টোনটা আলাদা হবে।’ তবে ‘আলাদা টোন’ বলতে তিনি কি বুঝাতে চাইলেন সে বিষয়টি খোলাসা করেননি তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয়রা অনেক সময় মাদক তৈরি করে। সেখানে তারা ফেন্সিডিল তৈরি করে আমাদের দেশে ঢুকিয়ে দেয়। তারা ফেন্সিডিলগুলো ওষুধ হিসেবে বানাচ্ছে বললেও আসলে এটা মাদক হিসেবেই বানানো হয়।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো কাজ করতে হলে দুই পক্ষে অনুমতি নিতে হয়। এগুলো একপক্ষে করার নিয়ম নাই। যদিও তারা এভাবেই করতে চায়। উন্নয়নমূলকভাবে একটা মসজিদ বা মন্দির করতে হলে দুই দেশের সম্মতি প্রয়োজন হয়। আগামীতে কিছু করতে হলে যেন তারা সম্মতি নেয় এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিএসএফ বা ভারতীয় নাগরিক/ভারতীয় দুষ্কৃতকারী কর্তৃক সীমান্ত হত্যা/সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো বা কাউকে আহত করা বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলনে বিএসএফ বা ভারতীয় নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়া বা আটক করা বন্ধ করতে আলোচনা করা হবে।
বিএসএফ বা ভারতীয় নাগরিক কর্তৃক সীমানা লঙ্ঘন বা অবৈধ পারাপার অথবা অনুপ্রবেশ বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভারত থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য চোরাচালান প্রতিরোধ করতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ ছাড়া আগরতলা থেকে আখাউড়ার দিকে বর্জ্য পানি প্রবাহিত হয়, এরকম চারটি খালে পানি শোধনাগার স্থাপন কারার বিষয় আলোচনা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানির সুষম বণ্টন, নদী থেকে পানি উত্তোলন, পানি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং রহিমপুর খালের মুখ পুনঃউন্মুক্তকরণ নিয়েও আলোচনা হবে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যে গত বছর নভেম্বরে নির্ধারিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক বৈঠক হয়নি। পরে দুপক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে তা ফেব্রুয়ারিতে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর বিজিবি সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে উভয় দেশের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্মেলনটি তিন মাস পিছিয়ে আগামী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীই সম্মেলনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









