বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আগামীকালের নির্বাচন প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বলেছেন, ‘নির্বাচনে স্থগিতাদেশ দিচ্ছি না। নির্বাচন হওয়া উচিত।
বিসিবি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ পরিষদে কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলামের গত ১৮ সেপ্টেম্বরের চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা স্থগিতই থাকবে বলে আজ আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার আদালত।
আজকের এই আদেশের বিষয়ে বিসিসির আইনজীবী মাহিন এম রহমান সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত করে দেয়া আদেশটি চলমান থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন চেম্বার আদালত। ফলে ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া চিঠি বহাল থাকল। আগামীকাল বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুনানিতে অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম। আর বিসিবির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহিন এম রহমান।
উল্লেখ্য যে, পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচিত ২৫ জন পরিচালকের মধ্য থেকে বোর্ড সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। বিসিবির সাধারণ পরিষদের সদস্যরাই (কাউন্সিলর) পরিচালক পদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এবার প্রথমে কাউন্সিলরদের নাম জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৭ সেপ্টেম্বর। পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র (২০২৪ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী সাধারণ পরিষদের কাউন্সিলরের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন প্রসঙ্গে’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভাগীয়/জেলা ক্রীড়া সংস্থা বরাবরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের সই করা চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছিল, বিসিবির কাউন্সিলর হিসেবে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে নাম প্রেরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হয়নি। আগের ফরম বাতিল করে বিসিবি থেকে পাঠানো নতুন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কাউন্সিলরের নাম পাঠাতে অনুরোধ করা যাচ্ছে। ওই চিঠির বৈধতা নিয়ে এ বি এম মনজুরুল আলমসহ চারজন কাউন্সিলর (১৮ সেপ্টেম্বরের আগে মনোনীত) ২২ সেপ্টেম্বর রিটটি করেন। সেদিন শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়ে বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলামের ১৮ সেপ্টেম্বর সই করা চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
তবে হাইকোর্টের ওই আদশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করলে চেম্বার আদালত শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করে সে সময় পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এবিষয়ে শুনানি নিয়ে আদালত স্থগিতাদেশ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে আদেশ দেন। সে ধারাবাহিকতায় আজ আদেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।









