অবৈধ অস্ত্র জমা দেয়ার শেষ দিন আজ মঙ্গলবার। আগমীকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে যৌথ অভিযান৷ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিকদের দেয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে৷ তবে এর আগে দেয়া অস্ত্রের লাইসেন্স বহাল আছে৷ তাদের আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে হবে না৷
ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার জেলা প্রশাসক ফারজানা জামান বলেন, অস্ত্র জমা দিতে হবে থানায়৷ আর যারা অথোরাইজড ডিলারের কাছে আগেই আগ্নেয়াস্ত্র জমা রেখেছেন তারা থানায় শুধু জমার কাগজপত্র জমা দিলেই হবে৷ অস্ত্র ও গুলি সবই জমা দিতে হবে৷ মঙ্গলবারের মধ্যে যারা জমা না দেবেন তাদের আগ্নেয়াস্ত্র অবৈধ বলে বিবেচিত হবে৷
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরে সাড়ে চার হাজারের বেশি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র আছে৷ আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়ছে, তবে জমা দেয়ার শেষ দিনে কত অস্ত্র জমা পড়লো তা জানা যাবে৷
বৈধ অস্ত্রের তথ্যভান্ডার ‘ফায়ার আর্মস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের’ (এফএএমএস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২১ সালে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল ৪৪ হাজার ১০৪টি, যার মধ্যে ব্যক্তির নামে রয়েছে ৪০ হাজার ৭৭৭টি অস্ত্র৷ বাকি অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স দেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে৷ এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একনলা ও দোনলা বন্দুক, শটগান, পিস্তল, রিভলবার ও রাইফেল৷ তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা এখন ৫০ হাজারের মতো৷
এর কমপেক্ষ দুই-তৃতীয়াংশ অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে৷ ১০ হাজার অস্ত্র আছে রাজনৈতিক নেতাদের নামে৷ এরমধ্যে এক ব্যক্তি একাধিক লাইসেন্সও নিয়েছেন৷
বৈধ অস্ত্রের হিসাব থাকলেও দেশে অবৈধ অস্ত্র কত আছে তার কোনো হিসাব নেই৷
পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সদরদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে সারাদেশ থেকে প্রায় আট হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে৷ আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় তিন হাজার অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়৷
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমাতে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে সিভিল ড্রেসে অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে৷ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. এম সাখাওয়াত হোসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব নেয়ার পর বলেছিলেন, এমন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে, যা এদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নেই৷
আবার আন্দোলনের সময় থানায় হামলা ও আগ্নেয়াস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেছে৷ শুধু ঢাকা শহরের থানাগুলো থেকেই এক হাজার ৮৯৮টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছে৷ তারমধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৫৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র৷
সূত্র: ডয়চে ভেলে









