রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান তীব্র গ্যাস সঙ্কটের পেছনে সঞ্চালন লাইনের লিকেজকে দায়ী করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদীর নিচ দিয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ ধরা পড়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে রাখা হয়েছে।
তিতাস গ্যাসের অপারেশন ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানিয়েছেন, আমিনবাজার থেকে আসা গ্যাস সঞ্চালন লাইনে লিকেজ শনাক্ত হওয়ার পর মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সীমিত করা হয়। এর প্রভাব পড়ে কাফরুল, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়।
তিনি বলেন, গত তিন দিন ধরে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল যৌথভাবে মেরামতের কাজ করছে। বুধবার একটি লিক ক্ল্যাম্প বসানো সম্ভব হলেও পুরোপুরি মেরামত এখনো শেষ হয়নি। বিশেষ আকারের নতুন লিক ক্ল্যাম্প তৈরি করে পুনরায় কাজ শুরু করতে হবে।
তিতাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত লিকেজের মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজধানীর অন্যান্য এলাকার গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের বৈধ গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে অবৈধ সংযোগের কারণে অনেক এলাকায় বৈধ গ্রাহকরাও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে আবার নতুন করে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনেকটা চোর-পুলিশ খেলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে বৈধ গ্রাহকরাই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। তিতাস একা এই সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
গ্যাস সংকট নিরসনে শুধু তিতাসের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে গ্রাহকসহ সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি। অবৈধ সংযোগ বন্ধ না হলে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে।
এদিকে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এলপি গ্যাস বা সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তবে নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা, যা সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।









