ইতালীকে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সিসিলির সাথে সংযুক্ত করবে এমন একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার বিপক্ষে হাজার হাজার মানুষ সিসিলিতে বিক্ষোভ করেছে। এই সেতু তৈরি হলে তা হবে বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩.৫ বিলিয়ন ইউরো (১৫.৭ বিলিয়ন ডলার)।
প্রস্তাবিত সেতুটি প্রায় ৩.৭ কিলোমিটার (২.৩ মাইল) দীর্ঘ হবে এবং এর ঝুলন্ত অংশ ৩.৩ কিলোমিটার (২ মাইলেরও বেশি) হবে। এটি তুরস্কের কানাক্কালে সেতুকে (১,২৭৭ মিটার ) ছাড়িয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুতে পরিণত হবে।
রোববার (১০ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সিসিলিয়ান শহর মেসিনায় প্রায় ১০,০০০ বিক্ষোভকারী এই অবকাঠামো প্রকল্পের বিরোধিতা করে। এই অঞ্চলে সেতু নির্মাণের ধারণাটি কয়েক দশক ধরে বিতর্কিত। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের এই অবস্থান প্রস্তাবিত সেতু প্রকল্পের স্কেল, এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের আশংকা, পরিবেশগত প্রভাব এবং সম্ভাব্য মাফিয়া হস্তক্ষেপের কারণে।
সিসিলির পরিবহন মন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি বলেন, এই সেতু প্রকল্প পশ্চিমের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প হবে।
তিনি আরও বলেন, এই সেতু প্রকল্প বছরে ১২০,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ ইতালিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে, কারণ প্রকল্প সংলগ্ন রাস্তাঘাট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
সালভিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রায় ৫০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করতে হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলিকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
বিক্ষোভকারীদের ‘মেসিনা প্রণালী স্পর্শ করা যাবে না’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায় এবং তারা “নো পন্টে” (নো ব্রিজ) লেখা ব্যানার বহন করছিল।
মেসিনার ৭৫ বছর বয়সী বাসিন্দা মারিওলিনা ডি ফ্রান্সেস্কো বলেন, তারা আমাকে আমার বাড়ির তিনগুণ মূল্য দিতে পারে, কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
ইতালির অডিট কোর্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বা অক্টোবরের প্রথমে শুরু হতে পারে। সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ ২০২৬ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা ২০৩২ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।









